সাকিবের পোখরাকে হারিয়ে এনপিএলে টানা দ্বিতীয় জয় পেল জনকপুর
স্পোর্টস ডেস্ক : চার ওভারে মাত্র ১৫ রান দিয়ে ৩ উইকেট শিকার করে বল হাতে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন সাকিব আল হাসান। তবে তার দুর্দান্ত বোলিংয়েও জয়ের দেখা পায়নি পোখরা অ্যাভেঞ্জার্স। ব্যাটারদের ব্যর্থতায় সাকিবের দুর্দান্ত বোলিংও কাজে আসেনি। মঈন আলীর বিধ্বংসী বোলিংয়ে ৯ রানের জয় তুলে নিয়ে নেপাল প্রিমিয়ার লিগে (এনপিএল) টানা দ্বিতীয় জয়ের দেখা পেয়েছে জনকপুর বোল্টস।
১ নভেম্বর (রোববার) নেপাল প্রিমিয়ার লিগের নবম ম্যাচে কীর্তিপুরের ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয় দুই দল। আগে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৪৭ রান সংগ্রহ করে জনকপুর। জবাবে ১৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৩৮ রানের বেশি করতে পারেনি পোখরা।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল জনকপুর। ওপেনিং জুটিতে মঈন আলী ও ত্রিত রাজ দাস পাওয়ারপ্লের ছয় ওভারেই তুলে নেন ৪৫ রান। ১৬ বলে ২১ রান করে মঈন ফিরলেও অন্য প্রান্তে দৃঢ়ভাবে ক্রিজে টিকে থাকেন ত্রিত। ৫৫ বলে ৭ চার ও ২ ছক্কায় ৬১ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন তিনি।
মাঝের ওভারগুলোতে অবশ্য নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় জনকপুর। সাইফ হাসান ১, অধিনায়ক হারমিত সিং ৯, অনিল সাহ ৯ এবং জিমি নিশাম ১১ রান করে বিদায় নেন। শেষদিকে অভিষেক তিওয়ারির ঝড়ো ব্যাটিংয়ে স্কোরবোর্ডে লড়াই করার মতো পুঁজি জমা হয়। মাত্র ১০ বলে ১ চার ও ২ ছক্কায় ২৪ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। তাতে ১৪৭ রানে থামে জনকপুরের ইনিংস।
পোখরার বোলিং আক্রমণে সবচেয়ে ধারালো ছিলেন বাংলাদেশের তারকা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। নিজের চার ওভারের স্পেলে মাত্র ১৫ রান দিয়ে তুলে নেন ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। তার শিকারে পরিণত হন মঈন আলী, সাইফ হাসান ও হারমিত সিং। চামিকা করুণারত্নে নেন ২ উইকেট। মেহেদি হাসান ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের ঝুলিতে যায় একটি করে উইকেট। তবে বোলারদের এমন পারফরম্যান্সের পরও ব্যাটিংয়ে দাঁড়াতে পারেনি পোখরা।
জবাবে রান তাড়ায় নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে পোখরা অ্যাভেঞ্জার্স। অধিনায়ক কুশল ভুর্তেলের ২৪ বলে ৩৫ রানের ইনিংসই ছিল দলের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ। দিনেশ খারেল করেন ৩, মেহেদি হাসান ৮ এবং সাকিব আল হাসান ১৭ বলে মাত্র ৯ রান। আরজুন ঘার্তির ব্যাট থেকে আসে ৭ রান।
মাঝের ওভারে কিরণ থাগুন্না ৫ বলে ১৫ রান তুলে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই আক্রমণ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। শেষদিকে বিপিন আচার্য ১৯ বলে ২০ এবং বিপিন খত্রী ১৪ বলে অপরাজিত ১৭ রান করলেও ব্যবধান ঘোচানোর জন্য তা যথেষ্ট ছিল না। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৩৮ রানেই থামে পোখরার ইনিংস।
জনকপুরের জয়ের অন্যতম নায়ক ছিলেন মঈন আলী। বল হাতে চার ওভারে মাত্র ১৩ রান দিয়ে ৩ উইকেট শিকারের পাশাপাশি আদায় করেন একটি মেডেন ওভার। তার নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ম্যাচের লাগাম নিজেদের হাতে রাখে জনকপুর। হারমিত সিং ও সাইফ হাসান দুটি করে উইকেট নেন। জিমি নিশাম ও ললিত রাজবংশী শিকার করেন একটি করে উইকেট।
এই জয়ে এনপিএলে টানা দ্বিতীয় জয় নিশ্চিত করল জনকপুর বোল্টস।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/189511