প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে উদ্বোধনস্থল পরিদর্শ করলেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী
শহর প্রতিনিধি: প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য বগুড়া সফরকে সামনে রেখে করতোয়া নদীর তীরে ব্লক স্থাপন ও পূর্ণ খননের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করেছেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। গতকাল শনিবার সকালে এস.পি ব্রিজ এলাকায় ডিসি পার্কের ওয়াকওয়ের পশ্চিম প্রান্ত ঘুরে দেখেন তিনি। পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
এসময় প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, খাল ও জলাশয় খনন ও পুনখননের কাজ এগিয়ে চলছে। তাঁর দাবি, মাত্র ছয় মাসে এ কাজে ১০১ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় করতোয়া, গজারিয়া ও ইছামতি নদীর অববাহিকায় খাল খননের জন্য একনেকে অনুমোদিত ১ হাজার ৫৪ কোটি টাকার প্রকল্পের বাস্তবায়ন উদ্বোধন করতে বগুড়া সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রথম পর্যায়ে মোট ২৯৪ কিলোমিটারের মধ্যে এই স্থান থেকে ৬ কিলোমিটার খনন করা হবে। পাশাপাশি তৈরি হবে আরও একটি ওয়াকওয়ে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বগুড়ায় নদী, খাল ও জলাশয় খনন-পুনখনন কর্মসূচির মাধ্যমে সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ, বৃক্ষরোপণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ হবে। পূর্ব প্রান্তে আরেকটি ওয়াকওয়ে নির্মাণের মাধ্যমে নগরবাসী নতুন এক বগুড়ার সামগ্রিক চিত্র দেখতে পাবেন।
বালু উত্তোলনের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের মাধ্যমে প্রকৌশলীরা সারা দেশের নদীর তালিকা তৈরি করছেন। কোন নদী থেকে বালু তোলা যাবে এবং কোনটি থেকে তুললে নাব্যতাংসহ অন্যান্য পরিবেশগত ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, তা যাচাই করা হচ্ছে। তালিকা তৈরি শেষে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বালু উত্তোলন নিয়ে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে নদীগুলোর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কাজ করবে মন্ত্রণালয়।
প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া সদর আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদল, জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান, জেলা পরিষদ প্রশাসক এ কে এম আহসানুল তৈয়ব জাকির ও পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ প্রমুখ। এ ছাড়া স্থানীয় ও দলীয় নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।
নদী তীর পরিদর্শনের আগে প্রতিমন্ত্রী নবসৃষ্ট বগুড়া সিটি করপোরেশনের নগর ভবন ঘুরে দেখেন। পরে জাতীয় যুব দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন। বেলা সাড়ে ১১টায় অনুষ্ঠানে র্যালিতে অংশ নেওয়ার পর তিনি বগুড়া আঞ্চলিক যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বৃক্ষরোপণ করেন।
আলোচনা সভা শেষে সম্মাননা গ্রহণ করে পূর্বনির্ধারিত অন্য একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তিনি বগুড়া মহানগর ত্যাগ করেন।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/189500