বর্ষা মৌসুমে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতে কৃষকের ভাগ্য ফলেছে উত্তরের জেলাগুলোতে আমন ধানের বাম্পার ফলন

বর্ষা মৌসুমে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতে কৃষকের ভাগ্য ফলেছে উত্তরের জেলাগুলোতে আমন ধানের বাম্পার ফলন

পঞ্চগড় প্রতিনিধি: আদিকাল থেকেই পঞ্চগড়ের কৃষকরা সম্পূর্ণ প্রকৃতি নির্ভর আমন ধান চাষ করে আসছেন। আগে অগ্রহায়ণ মাসের শুরু থেকে আমন ধান কাটা হলেও এখন তার থেকে এক-দেড় মাস আগেই কৃষকরা ঘরে তুলতে পারছেন ফসল। বর্ষা মৌসুমের শেষ দিকে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় এবার আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে উত্তরের জেলাগুলোতে।

জানা যায়, জেলায় আগাম জাতের ব্রি ধান-৩৩, ৫৬, ৬২, ৭২, বিনা-৭ ধান, ভারতীয় জাতের গুটি পারি, স্বর্ণা পারিসহ বিভিন্ন ধান ইতোমধ্যে পাকতে শুরু করেছে। কিছু দিনের মধ্যে ধান কাটা-মাড়াই শুরু হবে। ফসল ঘরে তোলার পর একই জমিতে আগাম জাতের আলু, সরিষাসহ শীতকালীন বিভিন্ন শাক-সবজি চাষ করবেন কৃষকরা।

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলা ময়দানদিঘী ইউনিয়নের প্রধানপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল লতিফ জানান, ২ বিঘা জমিতে আমন ধান আবাদ করেছেন। ইতোমধ্যে সব ধান পেকে গেছে। ফলন ভালো হওয়ায় প্রতি বিঘায় ১৯-২০ মণ ধান পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। তবে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। পাশের ময়দানদিঘী বাজারে নতুন প্রতি মণ ধান এক হাজার একশ’ থেকে এক হাজার দুইশ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি মণ ধান এক হাজার পাঁচশ’ টাকা হলে কৃষকরা লাভবান হতে পারতো।

পঞ্চগড়ের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল মতিন বলেন, চলতি আমন মৌসুমে পঞ্চগড় জেলায় এক লাখ ৪৪ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সর্বশেষ জেলায় এক লাখ ৪৫ হেক্টর জমিতে আমন ধান আবাদ করা হয়েছে।

এবার আবহাওয়া ভাল থাকায় বাম্পার ফলনের আশা করা হচ্ছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা তিন লাখ ৬১ হাজার ২৮৬ মেট্রিক টন। তবে এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আরও বেশি ধান উৎপাদিত হবে। তিনি আরও জানান, পুরোদমে মৌসুম শুরু হলে এবং মিলাররা ধান কেনা শুরু করলে দাম আরও বেড়ে যাবে। এছাড়া আগাম ধান কাটার পর সেই জমিতে আলু, গম, সরিষাসহ বিভিন্ন শাকসবজি আবাদ করে কৃষকরা অতিরিক্ত আয় করতে পারবেন।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/189497