বগুড়ায় এনজিও কর্মকর্তা মোখলেছুর অপহরণ : লাপাত্তা প্রবাসি বধূ, তদন্তে সিআইডি

বগুড়ায় এনজিও কর্মকর্তা মোখলেছুর অপহরণ : লাপাত্তা প্রবাসি বধূ, তদন্তে সিআইডি

স্টাফ রিপোর্টার : গত ৬ মাসেও উদ্ধার হয়নি বগুড়ায় অপহৃত এনজিও কর্মকর্তা মো.মোখলেছুর রহমান। তিনি বেঁচে আছেন না মারা গেছেন তা জানেনা পরিবার। তার ভাগ্যে কী ঘটেছে তা অজানা। তার প্রতিক্ষায় রয়েছে তার পরিবার। কিন্তু আজ রোববার (১ নভেম্বর) পর্যন্ত পুলিশ তাকে উদ্ধার করতে পারেনি । পরিবারের ধারণা, তাকে অপহরণের নেপথ্যে রয়েছে এক প্রবাসির বধূ।

কিন্তু ওই নারী এখন লাপাত্তা। এদিকে তাকে অপহরণ মামলার তদন্তভার এখন সিআইডিতে ন্যস্ত করা হয়েছে। এর আগে মামলাটির তদন্ত করেন সদর থানার এস আই আব্দুল খালেক। এখন মামলাটি তদন্ত করছেন সিআইডি বগুড়ার এসআই মনিরুল ইসলাম।

বাদি নিখোঁজ মোখলেছুরের ভাই আতাউর রহমানের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালতের বিচারক গত ৬ আগস্ট মাসে মামলাটি তদন্ত করতে নির্দেশ দেন সিআইডিকে। অপহৃত মোখলেছুর সোনাতলা উপজেলার বারঘরিয়া মধ্যপাড়ার মৃত বুদা প্রামাণিকের ছেলে।

তার বড়ভাই বাদি মো. আতাউর রহমান বলেন, তার ছোট ভাই মোঃ মোখলেছার রহমান (৩৭) বগুড়া সদরে পল্লীমঙ্গল ফোকাস সোসাইটি এনজিওতে ফিল্ড অফিসার হিসাবে চাকুরী করেন। চলতি বছরের গত ২৮ এপ্রিল সকাল ৮ টার দিকে তার অফিস থেকে তিনি এনজিও’র ঋনের কিস্তির টাকা আদায়ের জন্য বের হন।

ওই দিন বেলা ২টার পর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বর-০১৭৯০-১৮২৩৮৪ ও ০১৭৩৩-৩৩১২৯১ বন্ধ থাকে। এরপর বিভিন্নস্থানে খোঁজাখুজি করার এক পর্যায়ে নিখোঁজের দিন রাত ১০টার দিকে বগুড়া সদরের পল্লীমঙ্গল বাজারে মসজিদের সামনে পাকা রাস্তার পাশে তার ভাইয়ের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি পাওয়া যায়। তবে তার ভাই নিখোঁজই থাকে। ৬ মাস পেরিয়ে গেলেও তার ভাইকে পুলিশ উদ্ধার করতে পারেনি।

আতাউর রহমান বলেন, অপহরণের দিনে রত্না নামে এক প্রবাসির স্ত্রীর সাথে মোবাইল ফোনে কথা হয়েছিল মোখলেছুরের। কিন্তু সেই নারী এখন পরিবারসহ পালিয়েছে। অথচ তার ভাই অপহৃত হওয়ার পর পরই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ ওই নারীকে আটক করে থানায় এনেছিল। কিন্তু পরে তাকে ছেড়ে দেয়। থানা থেকে ছেড়ে দেয়ার পর পরই ওই নারী তার পরিবারসহ আত্মগোপন করে।

এদিকে, মামলার তৎকালীন তদন্তকারী কর্মকর্তা বগুড়া সদর থানার এসআই মো: আব্দুল খালেক বলেন, অপহৃত মোখলেছুর রহমানকে উদ্ধারের জন্য পুলিশের অভিযান চালানো হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

তবে তারা অপহরণকারী নয়, তারা প্রতারক। এনজিও কর্মকর্তা মোখলেছুর অপহরণের পর তার পরিবারের পক্ষ থেকে ফেসবুকে সন্ধান চেয়ে পোস্ট দেয়া হয়েছিল। সেই পোস্টে সন্ধানদাতাকে পুরস্কার দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয় এবং মোবাইল নম্বর দেয়া হয়।

এই সুযোগটি কাজে লাগায় ওই প্রতারকরা। তারা অপহরণকারী সেজে তার পরিবারের সাথে মোবাইল ফোনে কয়েকবার যোগাযোগ করে মুক্তিপণ হিসাবে ৮৭ হাজার ৯৯০ টাকা বিকাশের মাধ্যমে নিয়েছিল। পরে পুলিশ তথ্য প্রযুক্তির সহাতায় অপহরনকারী হিসাবে ওই দুইজনকে গ্রেফতার করে।

এরপর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করে যে তারা অপহরণকারী নয়, প্রতারক। তারপরও তাদেরকে এই অপহরণ মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়। বর্তমানে ওই দুই আসামি আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।

অপর দিকে, নয়া তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি বগুড়ার মনিরুল ইসলাম বলেন, অপহৃত এনজিও কর্মকর্তা মোখলেছুরকে উদ্ধারে সিআইডি কাজ করছে। তবে গতকাল পর্যন্ত তার কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। সেইসাথে রত্নাা নামে ওই প্রবাসি বধুকেও গ্রেফতারের অভিযান চলছে। তবে রত্না পালিয়েছে। রত্নার সাথে মোখলেছুরের সখ্যতা ছিল। তাকে গ্রেফতার করা গেলে এ মামলার তদন্তে অগ্রগতি হবে বলে তিনি জানিান।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/189493