আইজেনকটকে ক্ষমতা ভাগাভাগির প্রস্তাব নেতানিয়াহুর
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই কারও, তাই ইসরায়েলের রাজনীতিতে এখন ক্ষমতার সমীকরণ মেলানোর পালা। নতুন সরকার গঠন নিয়ে দলগুলোর মধ্যে চলছে নানা আলোচনা। এর মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকটের মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগির একটি সমঝোতার প্রস্তাবের খবর দিয়েছে দেশটির একটি টেলিভিশন চ্যানেল।
গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) ইসরায়েলের চ্যানেল ১৪-এ খবর প্রকাশ করে। চ্যানেলটির প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ এই সমঝোতার প্রস্তাব এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। নির্বাচনের ফলাফলে কোনো পক্ষ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় নতুন সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষমতা ভাগাভাগির এ প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে সরকার গঠনের জটিলতা কাটতে পারে। নির্বাচনে পাওয়া আসনের বর্তমান হিসাব অপরিবর্তিত থাকলে প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের সুযোগ রয়েছে।
চ্যানেল ১৪-এর দাবি, নির্বাচনি প্রচার শুরু হওয়ার এবং ফলাফল ঘোষণার অনেক আগে থেকেই এ সমঝোতার চেষ্টা করছে প্রেসিডেন্ট হারজগ। গত দুই বছর ধরে সে এ উদ্যোগ চালিয়ে আসছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পার্লামেন্টে আসন বণ্টনের বর্তমান চিত্র অপরিবর্তিত থাকলে প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের সুযোগ রয়েছে। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে নেতানিয়াহু প্রথম দুই বছর প্রধানমন্ত্রী পদে থাকতে চাইবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে, এ খবর সরাসরি নাকচ করেছে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়। এক বিবৃতিতে তারা প্রতিবেদনটিকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে অভিহিত করেছে। এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে কার্যালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। প্রেসিডেন্টের কার্যালয় আরও জানিয়েছে, সরকার গঠনের দায়িত্ব কাকে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে আগাম কোনো আলোচনা করছে না তারা। আগামী বুধবারের আগে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রেসিডেন্টের কাছে পৌঁছাবে না বলে জানানো হয়। আনুষ্ঠানিক ফলাফল পাওয়ার পর সংবিধান অনুযায়ী পার্লামেন্টের বিভিন্ন দলের সঙ্গে আলোচনা করবে হারজগ। এসব আলোচনার পরই সরকার গঠনের দায়িত্ব কোন দল বা নেতাকে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে সে।
এদিকে, গত বুধবার সন্ধ্যায় প্রকাশিত প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, ৮৫ শতাংশ ভোট গণনা শেষে নেতানিয়াহুর জোট ৫৩টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে, ইয়ার পার্টির নেতা আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। আরব দলগুলো পেয়েছে ১৯টি আসন। ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশটির ১২০ আসনের পার্লামেন্টে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। ফলে নতুন সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি।
এদিকে, বিশেষ ভোটের গণনা এখনো বাকি রয়েছে। সেনাসদস্য, কারাবন্দি, কূটনীতিক এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ভোটারদের দেওয়া ভোট এই গণনার অন্তর্ভুক্ত। এসব ভোট গণনা শেষে আসনসংখ্যার হিসাবে পরিবর্তন আসতে পারে। দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এবারের নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ। ২০২২ সালের নির্বাচনের তুলনায় ভোটার উপস্থিতি বেড়েছে ৭ দশমিক ১ শতাংশ। ১৯৯৯ সালের পর দেশটিতে এটিই সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি। সূত্র : মিডল ইস্ট মনিটর
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/189385