বগুড়ার দুপচাঁচিয়ার ব্লাক স্পট তিশিগাড়ী বাঁকে দুর্ঘটনায় স্ত্রীর মৃত্যু স্বামী আহত
দুপচাঁচিয়া (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কের দুপচাঁচিয়া উপজেলা সদরের তিশিগাড়ী বাঁক মৃত্যু ফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। এতে অকালেই ঝরে যাচ্ছে অনেক প্রাণ। গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ৮ টায় দুঘর্টনায় মোটরসাইকেল আরোহীর স্ত্রী শিক্ষিকা জয়া রানী (৩০) ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। এঘটনায় তার ব্যাংকার স্বামী মোটরসাইকেল চালক বাবলা দাস (৩১) গুরুতর আহত হয়েছে।
উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার পশ্চিমে বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কে এই তিশিগাড়ী বাঁকটি অবস্থিত। এই বাঁকটি স্থানীয় বাসিন্দাসহ এলাকাবাসির চরম আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সড়কটির বাঁকে উচ্চ গতিতে আসা যানবাহনের চালকরা মোড় ঘোরার আগ পর্যন্ত সামনের রাস্তা দেখতে পায় না।
বিপরীত দিক থেকে আসা যে কোনো যানবাহন হটাৎ নজরে আসায় দুর্ঘটনার সম্ভবনা বহুগুন বেড়ে যায়। দৃষ্টিসীমা বা লাইটস অব সাইট সমস্যার ফলে বাঁকের ওপাড়ে কি আছে তা দূর থেকে বোঝার কোনো উপায় থাকে না। এছাড়াও সড়কটির দুপাশে অসমতল হওয়ায় দুর্ঘটনা আরো বেড়ে যায়। এটি চালকদের দৃষ্টি-অন্ধকার ব্লাইড স্পটের মধ্যে ফেলে। ফলে প্রায়ই এখানে ছোট খাট দুর্ঘটনা লেগেই থাকছে। সড়কের এই বাঁকটিতে ঢাকা-নওগাঁগামী কোচসহ যাত্রীবাহী বাস ঘুরতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।
এক জরিপে জানা গেছে, বিগত ৫ বছর এই স্থানে মাইক্রোবাস দুর্ঘটনায় উপজেলার ভূতপূর্ব এক সাব রেজিস্টারের আদমদীঘি প্রকৌশলী অফিসের প্রধান হিসাব রক্ষকের মৃত্যু হয়। এ ছাড়াও বাসে বাসে সংঘর্ষ, ট্রাক বাসে সংঘর্ষে দুমড়ে মুচড়ে গেছে অনেক যাত্রীবাহী বাস কোচ, মটরসাইকেল দুর্ঘটনা অহরহ ঘটছেই। আশংকাজনক অবস্থায় এই সব যাত্রীদের উদ্ধার করে দুপচাঁচিয়া হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ক্ষেত্রে প্রাণহানীর মতো ঘটনাও ঘটেছে। আবার অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করছে। সচেতনভাবে গাড়ী চালাতে গিয়েও সড়কটির দুপাশ অসমতল হওয়ায় অনেক ড্রাইভার এই স্থানে যানবাহনগুলো নিয়ন্ত্রন হারিয়ে ফেলছে, ফলে ঘটছে দুর্ঘটনা। সর্বশেষ গতকাল শুক্রবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টায় ব্যাংকার দম্পত্তি শিবগঞ্জ উপজেলার কিচকের বেলাই গ্রামের বাবলা দাস ও তার স্ত্রী শিক্ষিকা জয়া রানী মোটরসাইকেল যোগে রাজশাহী থেকে শিবগঞ্জ ফেরার পথে উক্ত স্থানে পৌছিঁলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে।
এসময় শিক্ষিকা জয়া রানী রাস্তার উপর পড়ে যায়। এসময় একটি অজ্ঞাতনামা বাস তার উপর দিয়ে চলে গেলে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যায়। মোটরসাইকেল চালক ব্যাংকার বাবলা দাস রাস্তার অপর পাশে পরে গুরুতর আহত হয়। থানা অফিসার ইনচার্জ তাজমিলুর রহমান জানান, এ সংক্রান্তে দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষিকার বাবা অমল চন্দ্র মদক পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ নেই মর্মে লিখিত দিয়েছেন।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/189327