সিলেট শিক্ষা বোর্ডে এইচএসিতে দুই দশকে পাসের হার সর্বনিম্ন

সিলেট শিক্ষা বোর্ডে এইচএসিতে দুই দশকে পাসের হার সর্বনিম্ন

সিলেট শিক্ষা বোর্ডে এবার এইচএসসিতে বড় বিপর্যয় হয়েছে। এবছর উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট পরীক্ষার (এইচএসসি) সিলেট শিক্ষাবোর্ডে পাসের হার ৫০ দশমিক ৯০ শতাংশ। গত ২০ বছরের ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০০৬ সালের পর এ বছরই সিলেট বোর্ডে পাসের হার সর্বনিম্ন।

এর আগে ২০২৫ সালে সিলেট বোর্ডে এইচএসসিতে পাসের হার ছিল ৫১ দশমিক ৮৬ শতাংশ। এই এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার আরও কমেছে। এবার সিলেটে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ২০৪ জন। গতবছর জিপিএ-৫ পান ১ হাজার ৬০২ জন শিক্ষার্থী। সে হিসেবে এবার জিপিএ-৫ এর সংখ্যাও কমেছে।

আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে সিলেট শিক্ষা বোর্ডে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বিলকিস বেগম।

সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৬ সালে পাসের হার ছিল ৬৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ। পরবর্তী বছরগুলোতে তা বেড়ে ২০১০ সালে ৭৬ দশমিক ১২ শতাংশে পৌঁছায়। ২০১২ সালে পাসের হার ছিল ৮৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ, যা করোনা মহামারির আগের সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। এরপর ২০১৩ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত পাসের হার কমতে থাকে। ২০১৩ সালে ৭৪ দশমিক ৩০ শতাংশ থেকে নেমে ২০১৯ সালে দাঁড়ায় ৬৭ দশমিক ০৫ শতাংশে।

করোনা মহামারির সময় পরীক্ষাপদ্ধতি ও মূল্যায়নে পরিবর্তন আসে। ২০২০ সালে সিলেট বোর্ডে পাসের হার ছিল ১০০ শতাংশ। পরবর্তী বছরগুলোতেও সংক্ষিপ্ত সিলেবাস ও বিশেষ মূল্যায়নের প্রভাবে পাসের হার তুলনামূলক বেশি ছিল। ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে পাসের হার ৯৪ দশমিক ৮০ থেকে ৮৫ দশমিক ৩৯ শতাংশের মধ্যে ছিল। তবে ২০২৫ সালে ফলাফলে বড় পরিবর্তন আসে। ওই বছর পাসের হার নেমে দাঁড়ায় ৫১ দশমিক ৮৬ শতাংশে। এবার তা আরও কমে ৫০ দশমিক ৯০ শতাংশ হয়েছে। ফলে গত দুই বছরের ফলাফলে সিলেট বোর্ডে পাসের হার ধারাবাহিকভাবে কমেছে।

বোর্ডের তথ্যমতে, এবার সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ৭১ হাজার ৮৯৩ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৬৯ হাজার ১৭২ জন।

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াছমীন জানান, পরীক্ষায় অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি থাকায় সামগ্রিক ফলাফলে এর প্রভাব পড়েছে। এ ছাড়া পরীক্ষা চলাকালে আবহাওয়া ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতিও ফলাফল খারাপ হওয়ার অন্যতম কারণ হতে পারে।

তিনি আরও জানান, এবার সিলেট বিভাগের ছয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষার্থী পাস করেছে। অন্যদিকে তিনটি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। এর মধ্যে হবিগঞ্জের একটি এবং সুনামগঞ্জের দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। শিক্ষার মান ও বোর্ডের সার্বিক ফলাফল উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/189277