ঢাবি ‘সিনিয়র মাদ্রাসা’ ও ‘অমানুষ তৈরির কারখানা : ফজলুর রহমানের বক্তব্যের নিন্দা শিবিরের

ঢাবি ‘সিনিয়র মাদ্রাসা’ ও ‘অমানুষ তৈরির কারখানা : ফজলুর রহমানের বক্তব্যের নিন্দা শিবিরের

ঢাবি প্রতিনিধি : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘সিনিয়র মাদ্রাসা’ ও ‘অমানুষদের কারখানা’ আখ্যা দিয়ে বিএনপি নেতা ও সংসদ সদস্য ফজলুর রহমানের দেওয়া বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। একই সঙ্গে তাঁর বক্তব্যকে ‘উদ্ভট, দায়িত্বজ্ঞানহীন ও বিদ্বেষপ্রসূত’ উল্লেখ করে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার এক যৌথ বিবৃতিতে এ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। বিবৃতিতে সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ও ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দিন খান এবং সেক্রেটারি কাজী আশিক স্বাক্ষর করেন। বিবৃতিটি প্রচার ও গণমাধ্যম সম্পাদক মো. মিফতাহুল হোসাইন আল মারুফের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেবল একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়; এটি এ ভূখণ্ডের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, স্বাধিকার আন্দোলন এবং গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ‘অমানুষ’ আখ্যা দেওয়া শুধু শিক্ষার্থীদের প্রতি অবমাননা নয়, বরং দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার কেন্দ্রের প্রতি প্রকাশ্য ঔদ্ধত্য।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিএনপি সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান ‘সিনিয়র মাদ্রাসা’ শব্দবন্ধটিকে অবজ্ঞা ও অপমানের উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করেছেন। অথচ সরকারবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে বিভিন্ন ঐতিহাসিক গণতান্ত্রিক আন্দোলনে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা শিক্ষাধারাকে হেয় করে বক্তব্য দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। দেশের শিক্ষা, সংস্কৃতি, জ্ঞানচর্চা ও জাতীয় জীবনে মাদ্রাসারও রয়েছে সুদীর্ঘ ঐতিহাসিক অবদান। বিবৃতিতে এ ধরনের বক্তব্যকে ধর্মীয় শিক্ষা ও ইসলামী মূল্যবোধের প্রতি অবজ্ঞার বহিঃপ্রকাশ বলেও উল্লেখ করা হয়।

ফজলুর রহমানের বক্তব্যে ‘দিল্লি পালানো ফ্যাসিবাদীদের’ মতো মুজিববাদী কর্তৃত্ববাদ, উগ্র বাঙালি জাতীয়তাবাদী আধিপত্যবাদ এবং ইসলামবিরোধী রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রতিফলন দেখা যায় বলেও দাবি করে ছাত্রশিবির। বিবৃতিতে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব দেওয়া এবং আওয়ামী বাকশাল ও ফ্যাসিবাদী আইকন শেখ মুজিবকে প্রত্যাখ্যান করার ক্ষোভ ও মনের কষ্ট থেকেই তিনি এমন লাগামহীন বক্তব্য দিয়েছেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিএনপি যদি সত্যিই গণতন্ত্র, বহুত্ববাদ ও জনগণের রাজনৈতিক অধিকারের কথা বলে, তাহলে দলটির শীর্ষ নেতৃত্বকে এ ধরনের অবমাননাকর বক্তব্যের বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নিতে হবে। গণতন্ত্রের কথা বলে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অপমান করার দ্বিচারিতা গ্রহণযোগ্য নয়। ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনীতির পরিচয় দিয়ে ফ্যাসিবাদী ও কর্তৃত্ববাদী মানসিকতার চর্চা করার অধিকার কারও নেই।

বিবৃতির শেষাংশে ফজলুর রহমানকে তাঁর বক্তব্যের জন্য অবিলম্বে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার এবং বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বকে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানায় ছাত্রশিবির। অন্যথায় এ বক্তব্যের দায় বিএনপিকেও রাজনৈতিকভাবে বহন করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ধর্মীয় বিদ্বেষ, শিক্ষার্থীদের অবমাননা এবং কর্তৃত্ববাদী রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে প্রশ্রয় দেওয়ার বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখবে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/189241