স্বর্ণের দাম স্থিতিশীল না থাকায় দুপচাঁচিয়ায় বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ী ও কারিগর

স্বর্ণের দাম স্থিতিশীল না থাকায় দুপচাঁচিয়ায় বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ী ও কারিগর

দুপচাঁচিয়া (বগুড়া) প্রতিনিধি : গত ২ বছরে স্বর্ণের দাম বেড়েছে কয়েক দফায়। দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় এবং স্থিতিশীল না থাকায় চরম বিপাকে পড়েছে বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার স্বর্ণ ব্যবসায়ীসহ সাধারণ ক্রেতারা। জুয়েলারি দোকানগুলোতে দেখা দিয়েছে ক্রেতা সংকট। এতে চরম অর্থনৈতিক টানাপোড়নে পড়েছেন স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি বেকার হয়ে  পড়েছেন অনেক স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও কারিগর।

আজ শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) এব্যাপারে উপজেলা জুয়েলার্স এ্যাসেসিয়েশনের সভাপতি আরবি জুয়েলার্সের স্বত্তাধিকারী জাহিদুল হক তালুকদার কাজল ও সাধারণ সম্পাদক রুপম জুয়েলার্সের স্বত্তাধীকারি রিংকু কুন্ডু জানান, দফায় দফায় স্বর্ণের দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতা শূণ্য হয়ে পড়েছে স্বর্ণপট্রির বাজার।

পাশাপাশি কারিগররা ন্যায্য মুজুরি না পেয়ে এ পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন। একদিকে দাম বৃদ্ধি অপরদিকে ক্রেতার অভাব। দোকান ভাড়া এবং জামানত সব মিলিয়ে দিশেহারা স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা। এর উপর আবার সরকারি চাপ, পৌর লাইসেন্স, ইনকাম ট্যাক্স, ভ্যাট এবং এসিড ব্যবহারের লাইসেন্স ভোগান্তি বাড়িয়ে দিয়েছে ব্যবসায়ীদের।

যারা বড় ব্যবসায়ী তারা বাজারে কোনো ভাবে টিকে থাকলেও মাঝারি ব্যবসায়ীরা সব সময় অস্থিরতার মধ্যে ব্যবসা করছেন। আজ এক রেটে অর্ডার নেয়া হলে দেখা যায় কালকেই হঠাৎ দাম বেড়ে গেছে। আবার দাম কমেও যায়। ক্রেতারা কিন্তু কোনো কথা শুনবে না। তারা জিনিস চায়, তবে দামও বেশি দিবে না। এক্ষেত্রে তাদেরকে অনেক সময় অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হচ্ছে।

অনেকেই পুঁজি হারিয়ে পথে বসছে। প্রতিদিন সোনার দাম পরিবর্তনের কারনে ছোট ছোট ব্যবসায়ীরা নি:স্ব হচ্ছে। তারা জানান, বর্তমানে ১৮ ক্যারেট প্রতি ভরি ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৫০ টাকা, ২১ ক্যারেট প্রতি ভরি ২ লাখ ১৩ হাজার ৪৩ টাকা এবং ২২ ক্যারেট প্রতি ভরি ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা। সনাতন প্রতি ভরি ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭৪ টাকা এবং রুপা ২২ ক্যারেট প্রতি ভরি ৩ হাজার ৮ শ’ ৪৯ টাকা। সম্প্রতি সোনার দাম ভরি প্রতি ১ হাজার ১ শ’ ৮ টাকা কমেছে।

এভাবে দাম উঠা নামা করায় আগের মত ক্রেতা পাচ্ছেন না। জুয়েলার্স এ্যাসেসিয়েশনের সাবেক সভাপতি মার্তৃ জুয়েলার্সের স্বত্তাধীকারি অজিত দত্ত পতু জানান, উপজেলায় তাদের এ্যাসেসিয়েশনের আওতায় প্রায় ৮০ টির অধিক স্বর্ণ ব্যবসায়ী রয়েছে। কারিগর রয়েছে প্রায় দু’শতাধিক। দফায় দফায় সোনার দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেক স্বর্ণ ব্যবসায়ী ব্যবসা ছেড়ে দেওয়ার চিন্তা ভাবনা করছেন।

আবার অনেকে পৈত্রিক ব্যবসা হিসেবে ক্ষতি মেনে নিয়েও এ ব্যবসা ধরে রেখেছেন। উপজেলার পুরাতন বাজার এলাকা স্বর্ণ পট্রির বিভিন্ন দোকান ঘুরে দেখা গেছে, দোকানগুলোতে আগের মত আর ভিড় নেই। নতুন অলঙ্কার কেনার পরিবর্তে অনেকেই পুরাতন গহনা মেরামত বা বিক্রি করে দিচ্ছেন। এতে কারিগরদের আয় প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক কারিগর এখন বেকার। উপার্জন না থাকায় কেউ কেউ বাধ্য হয়ে ভিন্ন পেশায় চলে যাচ্ছেন।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/189212