ডাকসু নির্বাচন: হল পর্যায়ে ছাত্রসংগঠনগুলো থেকে মতামত নিচ্ছে প্রশাসন

ডাকসু নির্বাচন: হল পর্যায়ে ছাত্রসংগঠনগুলো থেকে মতামত নিচ্ছে প্রশাসন

ঢাবি প্রতিনিধি : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) পরবর্তী নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের সাথে আলোচনা ও তাদের মতামত নেওয়া শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি হলে ছাত্রসংগঠনগুলোর সংশ্লিষ্ট হল শাখার প্রতিনিধিদের কাছ থেকে আলাদাভাবে লিখিতভাবে এ মতামত নেওয়া হচ্ছে। 

চলতি মাস (অক্টোবর থেকে) হল পর্যায়ে ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠন ও অংশীজনের কাছ থেকে মতামত নেওয়া শুরু করেছে হলগুলো। ইতিমধ্যে মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল, স্যার এ এফ রহমান হল, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল, বিজয় একাত্তর হল, ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ হলে ছাত্রসংগঠনগুলোর প্রতিনিধির কাছ থেকে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মতামত নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।  

এর আগে গত ২০ আগষ্ট পরবর্তী ডাকসু নির্বাচন আয়োজন নিয়ে হলগুলোর প্রভোস্টদের সাথে বৈঠক করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সে সময় নির্বাচন নিয়ে সক্রিয় ছাত্রসংগঠনগুলোর মতামত নিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোর প্রভোস্টদের (প্রধ্যক্ষ) মৌখিকভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়।


বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি ও শহীদুল্লাহ্ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. আমিনুল ইসলাম জানান 'বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে আমাদের হল প্রভোস্টদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছিল। হল প্রশাসন আলাদা আলাদাভাবে ছাত্রসংগঠনগুলোর কাছ থেকে নির্বাচন বিষয়ে মতামত নিচ্ছে।'

স্যার এ এফ রহমান হলের প্রভোস্ট সহযোগী অধ্যাপক কাজী মাহফুজুল হক সুপন  বলেন, 'আমাদের হলে ছাত্রদল, শিবির ও ছাত্রশক্তি লিখিত মতামত দিয়েছে। আমরা সেভাবেই তাদের মতামত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি।'

সূর্যসেন হল শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব আবিদুর রহমান মিশু  বলেন, 'আমরা ৩ নভেম্বর নির্বাচনের বিষয়ে লিখিত মতামত ও আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য নোটিশ পেয়েছি, সেভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছি।'

যা বলছে ছাত্রসংগঠনগুলো? :

ছাত্রদলের মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল শাখা সব ছাত্রসংগঠনের সহাবস্থান নিশ্চিত, হলের বাইরে ভোটকেন্দ্র স্থাপন, অভিযোগ নিষ্পত্তি কমিটি গঠন, ব্যালট পেপার অন্তত ১ মাস পর্যন্ত ভিডিও রেকর্ডসহ সংরক্ষিত রাখার নীতি চালু করার মত দিয়েছে।


এফ রহমান হল শিবিরের নির্বাচন বিষয়ে প্রস্তাবনা ঘেঁটে দেখা যায়, তারা নির্বাচন বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সংস্কারের প্রস্তাব করেনি। সবশেষে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের হুবহু পদ্ধতি ও নীতিমালা অনুযায়ী ডাকসু-২০২৬ নির্বাচন আয়োজন করার দাবি জানিয়েছে তারা।

অন্যদিকে, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল শাখা ছাত্রশক্তি 'ওয়েলফেয়ার পলিটিক্সের' লাগাম টানা, নির্বাচনের কেন্দ্র হলের বাইরে রাখা, নির্বাচনের সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকেন্দ্রীক গ্রুপগুলোর নিয়ন্ত্রণ রাখার প্রস্তাব দিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলের প্রভোস্ট বলেন, 'ভোটকেন্দ্র হলের বাইরে রাখাসহ কিছু বিষয়ে ছাত্রসংগঠনগুলো একই মত দিয়েছে।'

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/189142