২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকেই বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস শুরুর প্রত্যাশা

২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকেই বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস শুরুর প্রত্যাশা

স্টাফ রিপোর্টার: বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. কুদরত-ই-জাহান বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। মতবিনিময়কালে তিনি জানান, সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়টিতে প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম শুরু হতে পারে। আগামী বছরের ১৯ মার্চ গুচ্ছ পদ্ধতির যে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে, সেই পরীক্ষার মাধ্যমেই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।

তিনি আরও বলেন, বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় উত্তরবঙ্গের বগুড়া জেলায় নবপ্রতিষ্ঠিত একটি পূর্ণাঙ্গ সরকারি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়। ২০০১ সালে এটি ‘বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে আইন পাস হলেও দীর্ঘ ২৫ বছর এর প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রম ফাইলবন্দি ছিল। 

পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ১৪ জুলাই জাতীয় সংসদে ‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৬’ পাস হওয়ার মাধ্যমে এটি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে নতুন রূপ ও নামে যাত্রা শুরু করেছে।

বগুড়া উপশহরস্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন বগুড়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি রেজাউল হাসান রানু, সিনিয়র সহ সভাপতি রাহাত রিটু, সিনিয়র সাংবাদিক মিলন রহমান, বগুড়া টেলিভিশন রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মোহন আকন্দ, সাধারণ সম্পাদক মেহেরুল সুজন এবং সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি সৈয়দ ফজলে রাব্বি ডলার প্রমুখ।

মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, বগুড়াবাসীর প্রত্যাশা—বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় হবে একটি আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যেখানে বিদেশ থেকেও শিক্ষার্থীরা পড়তে আসবেন। এ সময় তারা মেধার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ, শহরের বাইরে কোলাহলমুক্ত পরিবেশে স্থায়ী ক্যাম্পাস স্থাপন, প্রতিটি অনুষদের জন্য পৃথক অবকাঠামো এবং দ্রুত ক্লাস চালুর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. কুদরত-ই-জাহান বলেন, নির্ধারিত মানদণ্ড বজায় রেখেই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে; এ ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও রোবটিক্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পড়ানোর পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে।

উপাচার্য জানান, এগ্রিকালচার ফ্যাকাল্টি, ফ্যাকাল্টি অব মেডিকেল, ফ্যাকাল্টি অব আর্টস, ফ্যাকাল্টি অব বিজনেস স্টাডিজ এবং ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের অধীনে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই), আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ডাটা সায়েন্স, অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ও রোবটিক্স চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিক অবস্থায় তিনটি বিষয়ে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তি করা সম্ভব হবে।

অস্থায়ী ক্যাম্পাসের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অস্থায়ী প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ভবনটিতে আধুনিক স্মার্টবোর্ড সংবলিত শ্রেণিকক্ষ, অত্যাধুনিক কম্পিউটার ল্যাব এবং নিরাপদ পানির সুব্যবস্থা করা হয়েছে। চাকরির বাজারে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে ৯টি যুগোপযোগী বিষয় চালুর প্রস্তাব করেছে, যার সক্ষমতা সম্প্রতি ইউজিসির প্রতিনিধিদল সরেজমিনে পরিদর্শন করেছে।

শিক্ষক ও জনবল নিয়োগের বিষয়ে উপাচার্য কঠোর হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে। এখানে কোনো প্রকার স্বজনপ্রীতি বা সুপারিশের সুযোগ থাকবে না; সম্পূর্ণ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হবে।

 

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/188963