চুয়াডাঙ্গায় পৃথক দুই মামলায় তিনজনের যাবজ্জীবন

চুয়াডাঙ্গায় পৃথক দুই মামলায় তিনজনের যাবজ্জীবন

চুয়াডাঙ্গায় পৃথক দুটি মামলায় তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এর মধ্যে একটি হত্যা মামলায় দুজন এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় একজনকে এ দণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে চুয়াডাঙ্গার পৃথক দুটি আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণা করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা ও দায়রা জজ এবং শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মোক্তাগীর আলম এবং চুয়াডাঙ্গার বিশেষ দায়রা জজ আদালত ও পারিবারিক আপিল আদালতের বিচারক শিমুল কুমার বিশ্বাস।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন হত্যা মামলার আসামি আলমডাঙ্গা উপজেলার শালিকা গ্রামের সোলায়মান আলীর ছেলে ইসমাইল হোসেন ও একই গ্রামের মৃত আবু ছদ্দিনের ছেলে আবুল কালাম আজাদ। অন্যদিকে, মাদক মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত শফিউল্লাহ (৬০) আলমডাঙ্গা উপজেলার কালিদাসপুর দক্ষিণপাড়ার মৃত জালাল উদ্দীনের ছেলে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি দুই আসামিকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাঁদের আরও দুই মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

অন্যদিকে, মাদক মামলায় শফিউল্লাহকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাঁকে আরও এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

হত্যা মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালের ২০ এপ্রিল শালিকা গ্রামের একটি ধানখেত থেকে একই গ্রামের জাহা বক্স মণ্ডলের ছেলে ঝন্টুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে বলে এজাহারে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়।

এ ঘটনায় ইসমাইল হোসেনসহ অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে অভিযুক্ত করা হয়।

রায়ের বিষয়ে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট আ. স. ম. আব্দুর রউফ বলেন, ২০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছেন। জরিমানা অনাদায়ে তাঁদের আরও দুই মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট। পরিবারটি ন্যায়বিচার পেয়েছে।

মাদক মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ১৯ অক্টোবর শফিউল্লাহর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ২২ অ্যাম্পুল বুপ্রেনরফাইন ইনজেকশন উদ্ধার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। পরে এ ঘটনায় অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে আলমডাঙ্গা থানায় মামলা করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি ও অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর সাঈদ মাহমুদ শামীম রেজা ডালিম বলেন, এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট। মাদকের বিস্তার রোধে এ রায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/188942