কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুনে নিহত ফতুল্লায় একই পরিবারের তিনজনের দাফন
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী সৈকতের পাটুয়ারটেক এলাকার ‘টুপটুপ রিসোর্টে’ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার একই পরিবারের তিন সদস্যের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
আজ বুধবা(০১অক্টোবর) বাদ জোহর ফতুল্লার পোস্ট অফিস সংলগ্ন শাহজাহান রোলিং মিলের পাশের বায়তুল নাজাত জামে মসজিদে তাঁদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে দাপা ইদ্রাকপুর কবরস্থানে তাঁদের দাফন করা হয়।
নিহতরা হলেন— ফারিহা কবির (৩৩), তাঁর ছোট ভাই নাফিস তেহামি (২৬) এবং ফারিহার সাড়ে ছয় বছর বয়সী ছেলে ফাইজান নূর। একসঙ্গে একই পরিবারের তিন সদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যুতে স্বজন ও এলাকাবাসীর মাঝে গভীর শোকের ছায় নেমে এসেছে।
নিহতদের স্বজনেরা জানান, নাফিস তেহামি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘মাস্টার্স ইন চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড কালচার’ প্রোগ্রামের শিক্ষার্থী ছিলেন। ফারিহা কবির স্বামী ও সন্তানকে নিয়ে চুয়াডাঙ্গায় বসবাস করতেন। তাঁর ছেলে ফাইজান নূর চুয়াডাঙ্গার ‘প্রদীপন মাধ্যমিক বিদ্যাপীঠ’-এর কেজি-টু শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
নিহত ফারিহা কবিরের চাচাতো বোন সাদিয়া বিনতে হাবিব জানান, তাঁদের দাদা রেলওয়েতে চাকরি করার সুবাদে ফারিহা ও নাফিসসহ পরিবারের সদস্যরা ফতুল্লা পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের পূর্ব পাশের রেলওয়ে কলোনিতে শৈশব ও কৈশোর কাটিয়েছেন। ফতুল্লায় তাঁদের নিজস্ব বাড়িও রয়েছে।
সাদিয়া আরও জানান, ২০১৯ সালে ফারিহার বিয়ে হয়। তাঁর স্বামী একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করায় তাঁরা চুয়াডাঙ্গায় থাকতেন। চলতি মাসের ১৪ তারিখ ফারিহা ও তাঁর এক খালাতো বোনসহ পরিবারের ১০ সদস্য কক্সবাজারে বেড়াতে যান। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৭ অক্টোবর সকাল ১০টার বাসে তাঁদের ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রিসোর্টে আগুন লাগে। এ সময় তিনজন জানালার থাই গ্লাস ভেঙে বের হতে পারলেও ফারিহা, নাফিস ও ফাইজান নূর নিহত হন। ফারিহার স্বামী জরুরি কাজে ঘটনার আগের রাতে ঢাকায় চলে আসায় তিনি অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যান।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের দাদা ও নানার বাড়ি নারায়ণগঞ্জে। স্বজনদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দাদার কবরের পাশেই তাঁদের সমাহিত করা হয়।
এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের এ ঘটনায় রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলা ও গাফিলতির অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহতদের স্বজনেরা। তাঁদের দাবি, রিসোর্টে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সঠিক ব্যবস্থাপনা থাকলে হয়তো এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, এই একই দুর্ঘটনায় নিহত ফারিহার অন্য এক খালাতো বোন মেহজাবিনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় এবং অপর দুই খালাতো বোন ইসরাত জাহান ও লায়লা জাহান নাবিলাকে টাঙ্গাইলের নাগরপুরে দাফন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৭ অক্টোবর কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী সৈকতের পাটুয়ারটেক এলাকায় ‘টুপটুপ রিসোর্টে’ অগ্নিকাণ্ডের এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/188928