স্ত্রীসহ সাবেক অতিরিক্ত আইজিপির বিরুদ্ধে দুদকের ২ মামলা
প্রায় ৩৮ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ১ হাজার ১০০ কোটি টাকার বেশি অস্বাভাবিক ব্যাংক লেনদেনের অভিযোগে পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মনিরুল ইসলাম, তার স্ত্রী সায়লা ফারজানা, শ্যালক রেজাউল আলম শাহীন ও শ্যালকের স্ত্রী সানজিদা খানম টুম্পার বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, রেজাউল আলম শাহীনের নামে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ২৩ কোটি ৩২ লাখ ৪৬ হাজার ৫২৬ টাকার সম্পদ অর্জন ও দখলে রাখার তথ্য পাওয়া গেছে। পাশাপাশি তার ৪০টি ব্যাংক হিসাবে ২০১৩ সালের ৮ ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৪৫ কোটি ২৮ লাখ ৩০ হাজার ৭৩৮ টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে।
দুদকের তথ্য বলছে, ওই সময় এসব হিসাবে ৫২৭ কোটি ৯২ লাখ ৮৮ হাজার ৮২৮ টাকা জমা এবং ৫১৭ কোটি ৩৫ লাখ ৪১ হাজার ৯১০ টাকা উত্তোলন করা হয়। ঘুস, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ বৈধ করার অপচেষ্টার অংশ হিসেবে শাহীন এসব সম্পদ অর্জন ও লেনদেন করেছেন বলে অভিযোগ করেছে সংস্থাটি।
এ ঘটনায় শাহীনের বোন সায়লা ফারজানা এবং তার স্বামী সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি মনিরুল ইসলামকেও আসামি করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সায়লা ফারজানা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব।
অন্যদিকে, শাহীনের স্ত্রী সানজিদা খানম টুম্পার নামেও জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ১৫ কোটি ৩০ লাখ ২১ হাজার ৫৯ টাকার সম্পদ অর্জন ও দখলে রাখার অভিযোগ পেয়েছে দুদক।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, টুম্পার ২৭টি ব্যাংক হিসাবে ২০১৩ সালের ৮ ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৩৩ কোটি ১০ লাখ ৫৫ হাজার ৭৮৮ টাকা জমা এবং ২৫ কোটি ৫১ লাখ ৯৮ হাজার ৫৫৫ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এসব হিসাবে মোট লেনদেনের পরিমাণ ৫৮ কোটি ৬২ লাখ ৫৪ হাজার ৩৪৩ টাকা।
দুদকের অভিযোগ, স্বামী শাহীন, ননদ সায়লা ফারজানা ও ভগ্নিপতি মনিরুল ইসলামের ঘুস, দুর্নীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ বৈধ করার অপচেষ্টার অংশ হিসেবে টুম্পার নামে সম্পদ অর্জন ও ব্যাংক লেনদেন করা হয়েছে। এ মামলায় টুম্পা, শাহীন, সায়লা ফারজানা ও মনিরুল ইসলামকে আসামি করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
দুটি মামলাতেই দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।