গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় বিষাক্ত মদপানে দুজনের মৃত্যু

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় বিষাক্ত মদপানে দুজনের মৃত্যু

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় বিষাক্ত মদপানে অসুস্থ হয়ে কৃষ্ণ বাড়ৈ (৩৫) ও মনোতোষ হালদার (৩৮) নামে দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় অনিল বাড়ৈ নামে এক যুবক ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ছাড়া আরও একজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। 

নিহতরা হলেন- কোটালীপাড়া উপজেলার রাধাগঞ্জ ইউনিয়নের দিঘলীয়া গ্রামের গেদু বাড়ৈয়ের ছেলে কৃষ্ণ বাড়ৈ ও একই গ্রামের মহেন্দ্র হালদারের ছেলে মনোতোষ হালদার।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ষষ্ঠীপূজার রাতে দিঘলীয়া গ্রামের মনোতোষ হালদার, কৃষ্ণকান্ত বাড়ৈ ও অনিল বাড়ৈ মদপান করেন। একপর্যায়ে ওই তিন যুবক অসুস্থ হয়ে পড়লে এলাকার লোকজন তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এই তিন যুবকের শারীরিক অবস্থার অনবতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। পরবর্তীতে ঢাকার পপুলার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত শনিবার মনোতোষ হালদার ও রোববার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে কৃষ্ণকান্ত বাড়ৈ মারা যান।

মৃত কৃষ্ণকান্ত বাড়ৈর ভাই বিষ্ণু বাড়ৈ বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে আমার ভাই কৃষ্ণান্তসহ তিনজন ডেকোরেটরের কাজ করতে পাশের গ্রাম খাগবাড়ি যায়। সেখানে গিয়ে কয়েকজনে মিলে মদপান করে। মদপানের কয়েক ঘণ্টা পর অসুস্থ হয়ে পড়লে আমরা তাকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি। এ ব্যাপারে আমরা থানায় কোনো অভিযোগ করিনি।

মনোতোষ হালদারের ভাই উত্তম হালদার বলেন, আমার ভাই মনোতোষ হালদার পূজায় ডেকোরেটরের কাজে গিয়ে পানি জাতীয় কিছু খেয়েছিল। যার কারণে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে আমরা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি। এরপরে এখানে বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার পপুলার হাসপাতালে ভর্তি করি। গত শনিবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় পপুলার হাসপাতালে সে মারা যায়।

রাধাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ভিম চরণ বাগচী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় একজন এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছে। আরও একজন নিখোঁজ আছে বলে শুনেছি।

এ বিষয়ে কোটালীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রিয়াদ মাহামুদ বলেন, ঘটনাটি আমাদের কেউ জানায়নি। আমরাও এ বিষয়ে অবগত নই। কোনো অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/188663