লালমনিরহাটের সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি থাকলেও নাগালের বাইরে চাল, ডাল, তেল, মাছ ও মাংসের দাম

লালমনিরহাটের সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি থাকলেও নাগালের বাইরে চাল, ডাল, তেল, মাছ ও মাংসের দাম

লালমনিরহাট প্রতিনিধি: শীতের আগমনী বার্তায় লালমনিরহাটের কাঁচাবাজারে উঠতে শুরু করেছে আগাম জাতের কিছু সবজি। এতে সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি মিললেও চাল, ডাল, তেল, মাছ ও মাংসের দাম বাড়তি রয়েছে। গতকাল রোববার দিনভর জেলার কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

বাজারের ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত কয়েক মাস বিভিন্ন জাতের সবজি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে অস্থিরতা চলছে। গত মাসের তুলনায় খাদ্যপণ্যের দাম আরও বেড়েছে। চিকন চালের কেজি ৫৮ টাকা থেকে বেড়ে এখন হয়েছে ৬৪ টাকা, চিকন মসুর ডাল ১৪০ টাকা থেকে বেড়ে ১৪২ টাকা এবং সয়াবিন তেলের লিটার ১৯৯ টাকা থেকে বেড়ে ২০৪ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

এছাড়া, ডিমের দাম ডজনে ৬ টাকা বেড়ে ১৫০ টাকা হয়েছে। গত তিন মাসে চাল, তেল, ডিম ও মসুর ডালের দাম ৫ থেকে ৮ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। মাছ ও মাংসের বাজারেও রয়েছে দামের ওঠানামা। ছোট মাছের দাম স্থিতিশীল থাকলেও নাইলোটিকা, রুই, গ্রাসকার্প ও পাঙাশের মতো বড় মাছের দাম কেজিতে ১৫ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও সোনালি ও দেশি মুরগির দাম কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। তবে, গরুর মাংস আগের মতোই কেজিপ্রতি ৭শ’ থেকে ৭৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবজির বাজারে তুলনামূলক স্বস্তি মিলছে। আলু ও বেগুন কেজিপ্রতি ২০ টাকা, পেঁয়াজ ৪৫ টাকা এবং করলা ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আকারভেদে প্রতি পিস লাউ ১৫ থেকে ২০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। তবে, বাজারে আসা নতুন শীতের সবজির মধ্যে কপি কেজিপ্রতি ৮০ টাকা এবং নতুন শিম ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচাবাজারসহ নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন খেটে খাওয়া নিম্ন ও স্বল্প আয়ের মানুষ।

গোশালা কাঁচাবাজারের ক্রেতা অটোচালক আলী মিয়া বলেন, সারাদিন অটো চালিয়ে ৪শ’ থেকে ৫শ’ টাকা আয় করি। সেখান থেকে প্রতিদিনের বাজার করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয়। একই বাজারের বিক্রেতা নুরইসলাম জানান, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় তাদের পরিবহণ খরচ বেড়েছে। উৎপাদন ও আমদানি কম থাকলে বেশি দামে কিনে বেশি দামে বিক্রি করতে হয়।

নতুন সবজির চাহিদা বেশি থাকায় সেগুলোও চড়া দামে কিনতে হচ্ছে। তারা প্রতি কেজিতে মাত্র ৫ থেকে ১০ টাকা লাভে পণ্য বিক্রি করেন। তুলনামুলকভাবে শহরের বাজারগুলোতে দ্রব্যমূল্য অতিরিক্ত বেড়ে গেছে। এর মূল কারণ আমদানির ঘাটতি ও তদারকির অভাব। সরকারের উচিত পণ্যের ওপর ট্যাক্স-ভ্যাট কমানো এবং নিয়মিত বাজার তদারকি নিশ্চিত করা।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/188623