বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে আড়াই কোটি টাকার যন্ত্রপাতি বরাদ্দ, দূর হচ্ছে এক্স-রে সংকট
স্টাফ রিপোর্টার : বগুড়ার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের চিকিৎসা সেবার মানোন্নয়নে ২ কোটি ৫০ লাখ টাকার চারটি চিকিৎসা সরঞ্জাম খুব শিঘ্রী সংযোজন করা হবে। উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ডিজিটাল এক্সরে মেশিন, সি-আর্ম মেশিন, অর্থোপেডিক ফ্র্যাকচার টেবিল এবং ফুল ল্যাপারোস্কোপি সেট রয়েছে ওই সরঞ্জামগুলোর মধ্যে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওপারেশন থিয়েটার, প্যাথলজি ও চক্ষু বিভাগসহ বিভিন্ন বিভাগের জন্য ২৯টি আধুনিক মেডিকেল যন্ত্রপাতি বরাদ্দের অনুমোদন চেয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কাছে চিঠি দিয়েছিলো। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোঃ মজিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই চাহিদাপত্র ও মূল্যের প্রস্তাবনা স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব বরাবর পাঠানোর পর এই বরাদ্দ অনুমোদিত হয়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হাসপাতালের অর্থোপেডিক, সার্জারি, গাইনি, রেডিওলজি, প্যাথলজি ও চক্ষু বিভাগসহ বিভিন্ন অপারেশন থিয়েটারের জন্য এই আধুনিক যন্ত্রপাতিগুলো চাওয়া হয়েছিল। হাসপাতাল প্রশাসনের কোটেশন অনুযায়ী, এসব যন্ত্রপাতি কেনার জন্য সর্বনিম্ন ৫ কোটি ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৭ কোটি ৭১ লাখ ৫০ হাজার টাকা সরকারি বরাদ্দের প্রয়োজন ধরা হয়েছে। গত এপ্রিল ও মে মাসে হাসপাতাল প্রশাসন এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট স্মারক ও সূত্রের আলোকে এই চাহিদাপত্রটি চূড়ান্ত করা হয়।
মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এই চাহিদাপত্র অনুযায়ী রেডিওলজি বিভাগের জন্য ৫০ লাখ টাকা মূল্যের ১টি ১০০০ এমএ ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন চাওয়া হয়েছে। বর্তমানে এই হাসপাতালে মাত্র একটি এক্স-রে মেশিন রয়েছে, যা বিপুলসংখ্যক রোগীর চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। প্রতিদিন এই হাসপাতালে গড়ে ১৫০ থেকে ২০০ জন রোগী এক্স-রে করার জন্য লাইনে দাঁড়ান।
কিন্তু সীমিত সক্ষমতার কারণে প্রতিদিন মাত্র ৭০ জন রোগীর এক্স-রে করা সম্ভব হয়। কোনো রোগীর যদি বিশেষ জরুরি এক্স-রে করানোর প্রয়োজন হয়, তবে তাকে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক বা আবাসিক চিকিৎসকের বিশেষ অনুমতি সাপেক্ষে তা করাতে হয়।
ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা দরিদ্র এবং হাসপাতালে পরিচিতি না থাকা সাধারণ রোগীরা তাৎক্ষণিক এই জরুরি স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। নতুন ডিজিটাল এক্স-রে মেশিনটি বরাদ্দ ও স্থাপন করা হলে এই দীর্ঘদিনের সংকট দূর হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
অন্যান্য যন্ত্রপাতির মধ্যে রয়েছে হাড়জোড় ও জটিল অস্ত্রোপচারের জন্য ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা মূল্যের ১টি তোশিবা সি-আর্ম মেশিন উইথ অর্থোপেডিক ফ্র্যাকচার টেবিল এবং পেট না কেটে আধুনিক পদ্ধতিতে অস্ত্রোপচারের জন্য ১ কোটি ১০ লাখ টাকা মূল্যের ১টি ফুল ল্যাপারোস্কোপি সেট।
এছাড়া সার্জারি, গাইনি ও অর্থোপেডিক বিভাগে অপারেশনের সময় রক্তপাত বন্ধের জন্য ৬টি উচ্চমানের ডায়াথার্মি মেশিন, ওপারেশন থিয়েটারের জন্য ৩টি এলইডি অপারেটিং লাইট, ৬টি ইলেকট্রিক অপারেশন টেবিল এবং ২টি আধুনিক অ্যানেস্থেসিয়া মেশিন তালিকার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ল্যাবরেটরির আধুনিকায়নে প্যাথলজি বিভাগের রক্ত পরীক্ষার জন্য ১টি ফুললি অটোমেটেড হেমাটোলজি অ্যানালাইজার এবং রক্তের রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য ১টি অটো বায়ো কেমিস্ট্রি অ্যানালাইজার সংগ্রহ করা হবে। চক্ষু বিভাগের সেবার মান বাড়াতে ৪ ধরনের যন্ত্রপাতি চাওয়া হয়েছে, যার মধ্যে চোখের ভেতরের অংশ পরীক্ষার জন্য ২টি স্লিট ল্যাম্প বায়ো মাইক্রোস্কোপ, চোখের পাওয়ার পরিমাপের জন্য ২টি অটো কেরাটোমিটার, ছানি অপারেশনের আগে লেন্সের সঠিক মাপ নির্ধারণের জন্য ১টি এ-স্ক্যান অপটিক্যাল বায়োমিটার এবং আধুনিক পদ্ধতিতে ছানি কাটার জন্য ১টি অত্যাধুনিক ফ্যাকো মেশিন রয়েছে।
ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ওই হাসপাতালের পাঠানো তালিকার মধ্যে থেকে চারটি আধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতি কেনার জন্য ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। যন্ত্রপাতিগুলোর মধ্যে রয়েছে ১টি সি-আর্ম মেশিন, ১টি অর্থোপেডিক ফ্র্যাকচার টেবিল, ১টি ফুল ল্যাপারোস্কোপি সেট এবং ১টি ১০০০ এমএ ক্ষমতাসম্পন্ন এক্স-রে উইথ সিআর সিস্টেম মেশিন।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মজিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, সরকারের সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা ও কোটেশন অনুযায়ী যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এই মূল্য তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছিল। মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় বাজেটও অনুমোদিত হয়েছে।
এখন স্বাস্থ্য দপ্তরের ক্রয় বিভাগ সেন্ট্রাল মেডিকেল স্টোর ডিপো (সিএমএসডি) টেন্ডার বা ক্রয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলেই সরঞ্জামগুলো হাসপাতালে চলে আসবে। এই কাঙ্ক্ষিত যন্ত্রগুলো এলে মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের চিকিৎসার মান বহুগুণ বাড়বে এবং সাধারণ মানুষ আধুনিক ও সাশ্রয়ী চিকিৎসা সেবা পাবেন।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/188500