বগুড়া সদর ও আদমদীঘিতে আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি : ৯ মাসে জেলায় ২৬৭ জনের আত্মহনন

বগুড়া সদর ও আদমদীঘিতে আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি : ৯ মাসে জেলায় ২৬৭ জনের আত্মহনন

স্টাফ রিপোর্টার : বগুড়ায় আত্মহত্যার প্রবণতা কমছে না। আত্মহত্যার ঘটনা বেড়েই চলেছে।  চলতি বছরের ৯ মাসে বগুড়া জেলায় মোট আত্মহত্যা করেছেন ২৬৭ জন। জেলার ১৩টি উপজেলার মধ্যে বগুড়া সদর ও আদমদীঘিতে আত্মহত্যার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। আত্মহননকারীদের একটি বড় অংশ নারী শিক্ষার্থী, কিশোর, তরুণ ও যুবক।

জেলা পুলিশের এক পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে,চলতি বছর ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে বগুড়া জেলায় আত্মহত্যা করেছেন ২৬৭ জন। এর মধ্যে গত সেপ্টেম্বর মাসেই আত্মহত্যা করেন ৩৩ জন। পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়,বগুড়া সদর ও আদমদীঘি উপজেলা এলাকার সবচেয়ে বেশি আত্মহত্যা প্রবণ এলাকা।

গত ৯ মাসে সদরে ৩৪ জন আর আদমদীঘিতে আত্মহত্যা করেছেন ২৭ জন। এছাড়া শাজাহানপুরে ২৪ জন, শিবগঞ্জে ২২ জন, মোকামতলায় ১০ জন, দুপচাঁচিয়ায় ২০ জন, ধুনটে ২৩ জন, শেরপুরে ২৪ জন, সোনাতলায় ১৫ জন, গাবতলীতে ২০ জন, সারিয়াকান্দিতে ১৭ জন নন্দীগ্রামে ১৬ জন ও কাহালুতে ১৫ জন আত্মহত্যা করেন। পুলিশের পরিসংখ্য্যান বিশ্লেষন করলে দেখা যায় জেলায় ৯ মাসে ২৬৭ জন আত্মহত্যা করেছেন। সে হিসাবে  গড়ে মাসে বগুড়ায় ২৯ জন করে আত্মহত্যা করে থাকেন।

শুধু অল্প বয়সী নারী শিক্ষার্থীই নন,আত্মহত্যার তালিকায় শিক্ষিত, অশিক্ষিত সব শ্রেণি ও পেশার মানুষের নাম যুক্ত হচ্ছে। ছেলে, বুড়ো, নারী-পুরুষ, শিক্ষিত-অশিক্ষিত অনেকে আত্মহত্যা করছেন। মনোবিজ্ঞানীরা বলেন,হতাশা থেকে মানুষ আত্মহত্যা করছেন। সামাজিক ও পারিবারিক সমস্যাও আত্মহত্যার জন্য দায়ী। কিন্তু সেই অনুযায়ী নেই তেমন আত্মহত্যা প্রতিরোধমুলক ব্যবস্থা।

জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) হোসাইন মুহা.রায়হান জানান, জেলা পুলিশের উদ্যোগে আত্মহত্যা প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শুধু পুলিশ নয়,আত্মহত্যা প্রতিরোধে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। পারিবারিবকভাবে কাউন্সিলিং করতে হবে। সামাজিকভাবে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। 

বিশ্লেষকরা বলেন, আত্মহত্যার উপকরণের সহজলভ্যতা, বেকারত্ব, পরকীয়া, যৌতুক, পরীক্ষা ও প্রেমে হয়রানির শিকার এবং অন্যকে দেখে উৎসাহিত হওয়াসহ নানা কারণে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটছে। এরমধ্যে পোকা মারার গ্যাস ট্যাবলেট,বিষ বা কীটনাশক হলো আত্মহত্যার প্রধান উপকরণ। এ ছাড়া ঘরের তীর বা সিলিং ফ্যানের সাথে গলায় ফাঁস ও ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করছে মানুষ।

চিকিৎসকরা জানান, বিষ বা কীটনাশক পান করলে হাসাপাতালে চিকিৎসার পর অনেকে প্রানে বেঁচেও যান। মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, মুলত হতাশা থেকে মানুষ বেশি আত্মহত্যা করে। সেইসাথে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরেও অনেকে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।

সিজোফ্রেনিয়া, উদ্বেগ, গোলযোগসহ বিভিন্ন মানসিকরোগের কারণে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে থাকে। পরিবারের কারোর মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা দেখা গেলে তাকে সময় দিতে হবে। তাকে কাউন্সিলিং করতে হবে। তার হতাশার কারন জেনে তারপাশে থেকে আত্মহত্যায় নিরৎসাহিত করতে হবে। এ ছাড়া মানসিক চিকিৎসাও করাতে হবে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/188384