বগুড়ার শাজাহানপুরে হাইব্রিড মরিচ চাষ করে কৃষক রানা মিয়া লাখপতি
শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি : মাত্র ২৭ শতক জমিতে হাইব্রিড মরিচ চাষ করে বগুড়ার শাজাহানপুরের জালশুকা পশ্চিমপাড়া গ্রামের কৃষক রানা মিয়া (৩২) এখন লাখপতি। রানা মিয়া ওই এলাকার কৃষক নুরুল ইসলামের ছেলে। তার সফলতার গল্প শুনতে এবং বাম্পার ফলন হওয়া মরিচ ক্ষেতটি একনজর দেখতে জালশুকা পশ্চিমপাড়া গ্রামে প্রতিদিন ভিড় করছেন আশপাশের এলাকার উৎসুক কৃষকেরা।
কৃষক রানা মিয়া জানান, তার এলাকায় প্রায় দুই যুগ যাবত হাইব্রিড মরিচের চাষ হচ্ছে। তিনিও কয়েক বছর যাবত হাইব্রিড মরিচের চাষ করছেন। ফলনের পরিমাণ নির্ভর করে হাইব্রিড মরিচের জাতের ওপর। কোন জাতের ফলন কম আবার কোন জাতের ফলন বেশি হয়। রোগবালাইও নির্ভর করে জাতের ওপর। এবার ওই এলাকার কৃষকরা টাইগার হট, কারিশমা, গ্রীন সুপার, কোরিয়ান ডিজি, গোল্ডেন কিং, ডিজি-১৮১৮, গোল্ডেন প্লাস, পেট্রোল ইত্যাদি জাতের হাইব্রিড মরিচ চাষ করেছেন। কিন্তু রানা মিয়া তার ২৭ শতক জমিতে চাষ করেছেন টাইগার হট জাতের মরিচ। চারা রোপণের ২ মাসের মাথায় মরিচ ধরতে শুরু করে। বর্তমানে তার মরিচ ক্ষেতের বয়স ৩ মাস। ইতোমধ্যে ৩ দফায় ৩৮ মণ মরিচ আহরণ করা হয়েছে। যার বাজার মূল্য পেয়েছেন ১ লাখ ১০ হাজার টাকা। অপরদিকে ২৭ শতক জমিতে মরিচ আবাদ করতে তার খরচ হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। মরিচের ফলন পাওয়া যাবে ৬ মাস পর্যন্ত। শেষ পর্যন্ত ২৭ শতক জমি থেকে আরও ২ লাখ টাকার মরিচ তুলতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন কৃষক রানা মিয়া।
পাশ্ববর্তী এলাকা মোস্তাইল গ্রামের বাসিন্দা মাওলনা শাহজাহান আলী জানান, মরিচ চাষে কৃষক রানা মিয়ার সফলতার গল্প শুনতে এবং বাম্পার ফলন হওয়া মরিচ ক্ষেতটি একনজর দেখতে তিনি বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে জালশুকা পশ্চিমপাড়া গ্রামে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি আরও অনেক উৎসুক কৃষককেও দেখতে পান। তিনি জানান, রানা মিয়ার মরিচ ক্ষেতের ফলন সত্যিই অবাক করার মতো। প্রতিটি গাছ থেকে এক তোলাতেই অর্ধ কেজি মরিচ পাওয়া যাচ্ছে। এমন বাম্পার ফলন কৃষকের জন্য অত্যন্ত লাভজনক হবে। একই সাথে বাজারে মরিচের চাহিদা পূরণেও ভূমিকা রাখবে।
শাজাহানপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমিনা খাতুন জানান, উচ্চমূল্যের ফসলের মধ্যে হাইব্রিড মরিচ অন্যতম। শাজাহানপুরের কৃষকরা হাইব্রিড মরিচ চাষের পাশাপাশি মরিচের চারা উৎপাদনেও এগিয়ে রয়েছেন। উপজেলার শাহনগর গ্রামে মরিচের চারা উৎপাদনে নার্সারি পল্লি গড়ে উঠেছে। ধীরে ধীরে আশপাশের গ্রামেও ছড়িয়ে পড়েছে চারা উৎপাদনের কর্মযজ্ঞ।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/188298