লালমনিরহাটে তিস্তাপাড়ের মানুষের দুশ্চিন্তা

লালমনিরহাটে তিস্তাপাড়ের মানুষের দুশ্চিন্তা

লালমনিরহাট প্রতিনিধি : বর্ষা বিদায় নিয়ে এসেছে হেমন্ত। আগাম নবান্নের আনন্দে কৃষকের মুখে হাসি ফুটলেও লালমনিরহাটের তিস্তাপাড়ের মানুষের জীবনে নেমে এসেছে দুশ্চিন্তা। পানি কমার সাথে সাথে নদী ভাঙন তীব্র হয়ে উঠেছে। একের পর এক ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি বিলীন হচ্ছে নদীগর্ভে। ভাঙনের কবলে পড়ে স্বপ্নের আমন ধান কেটে গবাদিপশুকে খাওয়াতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকেরা।

তিস্তার অব্যাহত ভাঙনে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ডাউয়াবাড়ি এবং এর আশে পাশের এলাকায় গত এক সপ্তাহে অন্তত ২০টি পরিবারের ঘরবাড়ি বিলীন হয়েছে। একই সাথে নদীগর্ভে চলে গেছে উঠতি আমন ধানসহ অন্তত ৩০ একর ফসলি জমি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, পানি কমার সাথে সাথে ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। তবে এসময়ে ভাঙন রোধে কাজ করার জন্য বরাদ্দ না থাকায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ একের পর এক ঘরবাড়ি ও আবাদি জমি বিলীন হলেও ভাঙন ঠেকাতে কার্যকর কোন উদ্যোগ নেই কর্তৃপক্ষের।

সরেজমিনে দেখা যায়, তীব্র স্র্রোতে নদীর পাড় ভেঙে পড়ছে। ভাঙনের মুখে থাকা পরিবারগুলোর কেউ ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন, কেউ বা শেষ মুহূর্তে বসতভিটা রক্ষার চেষ্টা করছেন। কোথাও বসতভিটা ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে, আবার কোথাও ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে ঘরবাড়ি। এভাবে প্রতিনিয়ত বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি। ভাঙন অব্যাহত থাকায় চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে এ এলাকার মানুষজনের।

উপজেলা প্রশাসন থেকে তিস্তার ভাঙনের কথা স্বীকার করে বলা হচ্ছে ভুক্তভোগীদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। তাদেরকে সহায়তা দেওয়া হবে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে। লালমনিরহাট জেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইখুল আরেফিন বলেন, তিস্তার দুই তীরে ভাঙন তীব্র হওয়ায় কৃষকেরা বাধ্য হয়ে আমন ধানের গাছ কেটে গবাদিপশুকে খাওয়াচ্ছেন। এখন পর্যন্ত সাড়ে ১০ বিঘা জমির আমন ধান কাঁচা অবস্থায় কেটে ফেলেছেন।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/188238