করতোয়ার ঘাটে ঘাটে উপচেপড়া ভিড় : বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো শারদীয়া দুর্গোৎসব

করতোয়ার ঘাটে ঘাটে উপচেপড়া ভিড় : বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো শারদীয়া দুর্গোৎসব

স্টাফ রিপোর্টার : প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয়া দুর্গাপূজা। পাঁচদিনব্যাপি এই উৎসবের জন্য ভক্তদের আবার অপেক্ষা করতে হবে এক বছর। প্রতি বছরের মত উৎসব উপলক্ষে বগুড়ার সবগুলো পূজামন্ডপ ভাসছিল আনন্দ ও আলোর বন্যায়।

গত ৫ দিন আনন্দ উল্লাসের পর আজ বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরের পর থেকে করতোয়া নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে প্রতিমা বিসর্জন শুরু হয়। একের পর পর এক শহরের ও শহরের আশেপাশের বিভিন্ন মন্ডপ থেকে ঘাটগুলোতে প্রতিমা আসতে থাকে বিসর্জনের জন্য।

মহালয়ার মধ্য দিয়ে গত ১০ অক্টোবর এবারের দুর্গোৎসবের ক্ষণ গণনা শুরু হয়েছিল। ওইদিন থেকেই দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতার সূচনা হয়। এরপর গত ১৬ অক্টোবর শুক্রবার ষষ্ঠী থেকে পাঁচ দিনের যে দুর্গোৎসব শুরু হয়েছিল, তা প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এ আয়োজন।

আজ বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমীতে শেষবারের মত দেবীর আশির্বাদ কামনায় নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ সব বয়সের ভক্ত নিবিষ্ট মনে প্রার্থনা করেন। প্রতিটি মন্ডপে পুষ্পাঞ্জলি দেয়া হয়। দেবীর বিদায় বেলায় চলেছে ঢাক আর শঙ্খধ্বনি, টানা মন্ত্রপাঠ, উলুধ্বনি, অঞ্জলি। সকালে দশমী পূজা আরম্ভ হয়। শাস্ত্রমতে এদিন দেবী দুর্গা মর্ত ছেড়ে কৈলাসে স্বামীগৃহে ফিরে যান তার সন্তানদের সাথে নিয়ে। এরপর সন্ধ্যায় প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে শারদীয়া  দুর্গোৎসবের সমাপ্তি হয়।

এই ক’দিন বাধভাঙ্গা আনন্দে মেতে উঠেছিল ভক্তরা। প্রতিবছরের মত এবারও মন্ডপে মন্ডপে অনুষ্ঠিত হয় সিঁদুর খেলা, আনন্দ উল্লাস আর নাচগান। হিন্দু সধবা নারীরা দেবী প্রতিমায় সিঁদুর পরিয়ে নিজেরা একে অন্যকে  সিঁদুর পরান।

সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিভিন্ন  মন্ডপ থেকে ট্রাক ও ভ্যানে করে প্রতিমাগুলো নদীর পাড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। মনে বিষাদের ছায়া থাকলেও  ভক্তরা মাকে বিদায় জানাতে নদীর পাড়ে নিয়ে যান। শুরু হয় বিসর্জন। প্রতিমা বিসর্জনের জন্য জন্য করতোয়া নদীর মালতিনগর এসপিঘাট, দত্তবাড়ির কদমতলী ঘাট, চেলোপাড়া, লালমাটির ঘাটসহ শহরের আরো কয়েকটি ঘাটে লাইন করে ভক্তরা দেবী বিসর্জন করেছেন।

বগুড়ার বগুড়াসদরসহ জেলার ১৩টি উপজেলায় ৭৩২ টি মন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবছরের মত এবছরও  শহরের বেশকিছু পূজা মন্ডপে  অনুষ্ঠিত হয় আরতি, উলুধ্বনি, প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, শঙ্খধ্বনিসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতা। এদিকে প্রতিমা বিসর্জনের জন্য বগুড়া পুলিশ প্রশাসনের পক্ষথেকে সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যববস্থা নেয়া হয়েছিল। পাশাপাশি বগুড়ার ফায়ার সার্ভিস কর্মীদেরও তৎপরতা দেখা গেছে, যাতে দেবী বিসর্জনের সময় কোন অনাকাঙ্খিত ঘটনা না ঘটে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/188223