জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন: এক নিভৃতচারী আর্ত মানবতার প্রতীক

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন: এক নিভৃতচারী আর্ত মানবতার প্রতীক

‘একটি উদ্যোগ, একটু চেষ্টা এনে দেবে সচ্ছলতা, দেশে আসবে স্বনির্ভরতা’ এই স্লোগানকে ধারণ করে সমাজের সকল শ্রেণীর সুবিধা বঞ্চিত মানুষের জন্য নিরন্তরভাবে কাজ করে চলেছে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন (জেডআরএফ)। এর মূল লক্ষ্য ও অভীষ্ট উদ্দেশ্য হলো মানবকল্যাণ ও মানবসেবা। করোনা মহামারি, বন্যাসহ বিভিন্ন সংকটে এবং উপদ্রুত ও ভুক্তভোগী মানুষের পাশে এই ফাউন্ডেশন সবসময় জোরালোভাবে কাজ করেছে। এই সংগঠনের সঙ্গে প্রকৌশলী, চিকিৎসক, কৃষিবিদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সাংবাদিক, আইনজীবীসহ সমাজের অগ্রগণ্য মানুষেরা যুক্ত রয়েছেন। দেশের সম্মুখ সারির মেধাবী মানুষগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণের মধ্যে দিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রেখে যাওয়া অসমাপ্ত কাজগুলো আজ আলোর মুখ দেখছে। 

১৯৯৯ সালে ১৮ই অক্টোবর প্রতিষ্ঠার পর হতে এই মেধাবী মানুষগুলো দেশের অতি সাধারণ মানুষদের বিভিন্ন রকমের দুর্বিষহ অবস্থায় প্রয়োজনীয় সুবিধা দিয়েই আসছে জেড আর এফ এর মাধ্যমে। পরিচালিত হচ্ছে সম্পূর্ণরূপে অরাজনৈতিক এবং অলাভজনক কর্মকান্ডের মাধ্যমে। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সুযোগ্য সন্তান বর্তমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঠিক দিক নির্দেশনায় সংগঠনটি  আজ ২৭ বছর অতিক্রম করছে। দুদিন আগেই ১৮ই অক্টোবর শহীদ আবু সাঈদ অডিটরিয়ামে স্ব-গৌরবে পালিত হলো জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন এর ২৭ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। শ্রদ্ধায় মাথা অবনত হয়ে আসে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চিন্তাপ্রসূত কর্মকান্ড বাংলাদেশের আর্ত মানবতার সেবায় এত চমৎকার ভাবে নিভৃতচারীর কাজ করছে তা দেখে। আর করবেই না বা কেন? কারণ কাজগুলো সম্পূর্ণরূপে স্বেচ্ছাসেবীভাবেই পরিচালিত হচ্ছে অভিজ্ঞ ও দেশপ্রেমিক মানুষ দ্বারা। এখানে সক্রিয় অংশগ্রহণ করছে দেশের সর্বোচ্চ মেধাবী মানুষগুলো। নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি এই সংগঠনের একজন কর্মী ও সদস্য হিসাবে। 

একটু ভাবুন ১৯৯৯ সাল যখন আওয়ামী সরকার দেশ পরিচালনা করছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী  তারেক রহমান তখন রাষ্ট্রের কোন গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন নয়। তিনি তখন বিএনপি’র ও গুরুত্বপূর্ণ কোন পদে আসীন নন। কিন্তু তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সন্তান। এমন একজন মানুষ কি দেশের কথা চিন্তা না করে থাকতে পারেন। তাইতো তিনি দেশের সর্বোচ্চ মেধাবী শ্রেণীর মানুষদের নিয়ে আলোচনা করলেন রাজনীতির বাইরে সাধারণ মানুষের জন্য কি করা যায়। যে কাজগুলো শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান করতে চেয়েছিলেন, শুরু করেছিলেন। যার সফলতা মানুষ পেতেও শুরু করেছিল। বাংলাদেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সেবা, শিক্ষা, সুপেয় পানির ব্যবস্থাপনা, কৃষকদের বীজ ব্যবস্থাপনা, দুর্যোগ মোকাবেলা ইত্যাদি ইত্যাদি। বাংলাদেশ প্রাকৃতিক দুর্যোগ কবলিত দেশ। এদেশে বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ লেগেই থাকে। এই দুর্যোগ মোকাবেলায় কিভাবে সাধারণ মানুষ তাদের প্রয়োজনীয়টা পেতে পারে সেটা কিভাবে ব্যবস্থা করা যায় সেই চিন্তা ভাবনা থেকেই এই মহৎ সংগঠনটি তৈরির সহায়ক। 

বর্ষার সময় বন্যা সহ মানুষের  খাদ্য এবং স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজন তা কিভাবে সঠিক মানুষদের কাছে পৌঁছানো যায় এবং বন্যা পরবর্তী সময় কৃষকের বীজ সরবরাহ কিভাবে হবে এমন মহতী আকুতি এই সংগঠনের অনুপ্রেরণা। একইভাবে ষড়ঋতুর দেশ বাংলাদেশ যেখানে শীতকালে বহু মানুষ গরম কাপড়ের অভাবে অত্যন্ত কষ্টে জীবন যাপন করে। তাদের জীবনকে কিভাবে একটু আরামদায়ক করা যায় এই অনুপ্রেরণায় জন্ম নিয়েছিল সংগঠনটি। দেশের নিয়মিত প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি যখন বৈশ্বিক মহামারী ও বিভিন্ন ভয়াবহ রোগের প্রাদুর্ভাব বাংলাদেশে দেখা দেয় তখন কিভাবে মানুষ তা সামাল দিয়ে উঠতে পারে এই মানবিক তাড়না থেকেই এই সংগঠনটির যাত্রা। তাইতো কোভিডকালীন সময়ে সংগঠনের অকুতোভয় মেধাবী ডাক্তাররা তাদের জীবনের মায়া তুচ্ছ করে আর্ত মানবতায় ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। সফলতার সাথে কাজ করেছে কোভিডে আক্রান্ত মানুষের জন্য। করোনাকালীন সময়ে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি এবং স্বাভাবিক জীবনের স্বাদ গ্রহণে নিরন্তর কাজ করেছে। বিশ্বের অতিমারি কভিডের সময়ে যখন অক্সিজেন সংকট দেখা দিয়েছিল সংগঠনটি এই অতি প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরবরাহ করে আক্রান্ত রোগীদের জীবন বাঁচিয়েছে। 

সংগঠনের চৌকোস এবং দেশ প্রেমিক চিকিৎসকগণ জরুরি হট লাইন স্বাস্থ্যসেবা চালু করে ২৪ ঘন্টা মানুষের সেবা করেছে। যখন মাস্ক নিয়ে মানুষের মাঝে অতি সংকটপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করছিল তখন এই সংগঠনটি প্রাইভেট মেডিকেল পিপিই প্রদান করেছে। চালু করেছে স্বাস্থ্য সেবা ফেসবুক আইডি। করোনা অতি মারির সময়ে সফলভাবে সম্পন্ন করেছে হাত ধোয়া বেসিন প্রকল্প। যার সেবা মানুষ ঘরে বসে পেয়েছে। একইভাবে ডেঙ্গুর ভয়াবহতার সময়ে সাধারণ মানুষের করণীয় নিয়ে কাজ করছে সংগঠনটি। সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার প্রজনন স্থল ধ্বংসের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনায় কিভাবে সম্পৃক্ত করা যায় তা বিশেষজ্ঞ টিম দ্বারা পরিচালিত করেছে এই মানবতার সংগঠন। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রচার প্রচারণায় যথাযথভাবে সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করতে সক্ষম হয়েছে  জেড আর এফ।

একইভাবে ২৪ শে জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসা প্রদান কৃত্রিম অঙ্গ প্রতিস্থাপনে  উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে আসছে। বর্তমানে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও মানবতার সেবার পাশাপাশি পরিবেশ নিয়ে অনেক কাজ করছে জেড আর এফ। পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় যেমন কাজ করছে, ঠিক তেমনি ভাবে কাজ করছে পরিবেশের ভারসাম্য কিভাবে রক্ষা পাবে। অর্থাৎ সবুজ বনায়নের মাধ্যমে পরিবেশকে মানুষের যথাযথ বসবাসের উপযোগী করে দেশের মানুষকে একটি আরামদায়ক বাসযোগ্য ভূমি উপহার দিতে কাজ করছে সংগঠনটি। সংগঠনটির উদ্যোগে ঢাকা শহরেই ইতোমধ্যে বিপুল পরিমাণ গাছ লাগানো হয়েছে। ঢাকার বাইরেও চলছে এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। 

দেশের অসচ্ছল মেধাবীদের পাশে একান্ত আপনজন হিসেবে তাদেরকে দেশের সক্ষম কর্মক্ষম এবং নিজ কর্মে সুপ্রতিষ্ঠিত করার নিরন্তর কাজটি অত্যন্ত সফলভাবে করে চলেছে জেআরএফ। এ প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে নিজেদেরকে সঠিকভাবে বিকশিত ও প্রস্ফুটিত করার জন্য বিজ্ঞান মেলা সহ আইডিয়া ফেস্ট ২০২৫ মিনি হ্যাকাথন একটি অনন্য কার্যক্রম। তাইতো জেড আর এফ এর কর্মসূচি আজ দেশের গন্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। তুরস্কের ভয়াবহ ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় সংগঠনটি তুরস্ক দূতাবাসে কম্বল হস্তান্তর করেছে। 

কোমল পানির গভীর নলকূপ কমল বীজ একেকটি সফল প্রকল্প সাক্ষ্য বহন করছে জেড আর এফ এর মানবতার প্রতীক হিসাবে। তাই এটা নির্দ্বিধায় বলা যায়, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন এর ২৭ বছরের ইতিহাস মূলত মানব কল্যাণ, সহমর্মিতা, উন্নয়ন ও সেবার ইতিহাস। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সুপেয় পানি, কৃষি, সামাজিক নিরাপত্তা দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবেলা এবং মানবিকতার প্রতিটি ক্ষেত্রে ফাউন্ডেশনের বাস্তবমুখী উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসার। জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সংগঠনটি মানুষের কল্যাণে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিটি উদ্যোগের কেন্দ্রে রয়েছে মানুষের প্রতি ভালোবাসা, মানবিক মর্যাদা এবং স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়। আজকে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন জাতির কাছে তাই ভরসার এক প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। ফাউন্ডেশন এর প্রতিটি কাজ দেশ-বিদেশে আজ সমাদৃত ও প্রশংসিত। সংগঠনটির উত্তরোত্তর সফলতা ও সমৃদ্ধি কামনা করছি। 

লেখক : শিক্ষাবিদ, কলামিস্ট ও আজীবন সদস্য, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন। 

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/188156