ছাতিয়ানগ্রামে উন্নয়নে ১০ দফা প্রস্তাব চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আগ্রহী মোমেনুর রহমান তালুকদারের
1নং ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের আসন্ন চেয়ারম্যান নির্বাচনকে সামনে রেখে মোমেনুর রহমান তালুকদার সড়ক ও ড্রেনেজ উন্নয়ন, শিক্ষা, জনস্বাস্থ্য, যুবসমাজ, নারী নিরাপত্তা এবং স্বচ্ছ স্থানীয় প্রশাসনকে কেন্দ্র করে ১০টি অগ্রাধিকারসমৃদ্ধ একটি প্রস্তাবিত উন্নয়ন রূপরেখা তুলে ধরেছেন। চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আগ্রহী মোমেনুর রহমান তালুকদারের পরিকল্পনায় উন্নয়ন প্রকল্পের পাশাপাশি জনগণের অংশগ্রহণ ও কাজের অগ্রগতি যাচাইয়ের ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে চলাচলে ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক, ভাঙা কালভার্ট ও জলাবদ্ধতার স্থান চিহ্নিত করে একটি প্রকাশ্য ‘রাস্তা ও ড্রেনেজ মানচিত্র’ তৈরির প্রস্তাব রয়েছে। বর্ষাকালীন দুর্ভোগ, বিদ্যালয় ও বাজারে যাতায়াত এবং সেবাপ্রাপ্তির গুরুত্ব বিবেচনায় কাজের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হবে। ছোট প্রকল্প ইউনিয়ন পরিষদের অনুমোদিত বরাদ্দের মধ্যে এবং বড় প্রকল্প সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল ও উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ক্ষেত্রে ‘স্বাস্থ্যবান পাড়া’ উদ্যোগের মাধ্যমে নিরাপদ পানি, পরিচ্ছন্নতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পুষ্টি, হাত ধোয়া ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রমের প্রস্তাব করা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে তথ্য ও সেবায় প্রবেশাধিকার বাড়ানোর ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যালয়ে অনুপস্থিতি ও ঝরে পড়ার কারণ শনাক্ত করতে শিক্ষক–অভিভাবক–সমাজের সমন্বয়ে ‘প্রতিদিন স্কুলে’ কার্যক্রমের পরিকল্পনা রয়েছে। তরুণদের মানসিক সুস্থতা, নৈতিক মূল্যবোধ, জীবনদক্ষতা, খেলাধুলা, পাঠচক্র ও নেতৃত্বচর্চায় সম্পৃক্ত করতে ‘ছাতিয়ানগ্রাম যুব উদ্যোগ’ প্রস্তাব করা হয়েছে। মাদক প্রতিরোধে সচেতনতা ও সামাজিক সহযোগিতার পাশাপাশি আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনসেবায় সংযোগের কথা বলা হয়েছে; আইন প্রয়োগের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছেই থাকবে।
নারী ও কন্যাশিশুর নিরাপদ চলাচল, উত্ত্যক্তকরণ ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধ এবং স্থানীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর অংশগ্রহণকে পৃথক অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ‘নিরাপদ পথ, মর্যাদার অধিকার’ উদ্যোগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানমুখী চলাচলের ঝুঁকি ও জনপরিসরের নিরাপত্তা-ঘাটতি চিহ্নিত করার প্রস্তাব রয়েছে। দরিদ্র, বয়স্ক, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সরকারি সেবা ও সামাজিক সুরক্ষায় সংযোগের জন্য সহায়তা ব্যবস্থার কথাও পরিকল্পনাq উল্লেখ করা হয়েছে।
মৌসুমি সারসংকট প্রসঙ্গে তালুকদার বলেন, নির্বাচিত হলে সারসংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে কৃষকদের ন্যায্যমূল্যে ও সময়মতো সারপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে কাজ করবেন। এজন্য কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ, উপজেলা প্রশাসন, অনুমোদিত সার ডিলার এবং বাজার তদারকি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার প্রস্তাব করেছেন তিনি।
প্রস্তাবিত ‘কৃষকের সার সহায়তা ও ন্যায্যমূল্য পর্যবেক্ষণ’ ব্যবস্থায় মৌসুমপূর্ব চাহিদা ও সরবরাহ পর্যালোচনা, সরকারি নির্ধারিত মূল্যতালিকা প্রদর্শন, অনুমোদিত ডিলারের মাধ্যমে সময়মতো সার বিতরণে সহায়তা এবং অভিযোগ দ্রুত সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানোর কথা রয়েছে। অবৈধ হস্তান্তর বা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া, চুরি, কালোবাজারি ও চোরাচালানের অভিযোগ তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।
কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ, বাজারতথ্য এবং উপযুক্ত সরকারি সহায়তার সঙ্গে যুক্ত করার পাশাপাশি মৌসুমি জলাবদ্ধতা ও দুর্যোগ ঝুঁকি মোকাবিলায় ওয়ার্ডভিত্তিক অংশগ্রহণমূলক প্রস্তুতির পরিকল্পনা দেওয়া হয়েছে।
আর্থিক অনিয়ম ও পক্ষপাত প্রতিরোধে ‘জনগণের খোলা হিসাব’ উদ্যোগের মাধ্যমে অনুমোদিত বাজেট, বরাদ্দ, প্রকল্পের তালিকা এবং কাজের অগ্রগতি নাগরিকদের বোধগম্যভাবে প্রকাশের প্রস্তাব করা হয়েছে। ত্রৈমাসিক অগ্রগতি পর্যালোচনা, অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির তথ্য, এবং ওয়ার্ডসভায় অংশগ্রহণের ব্যবস্থাকে জবাবদিহির অংশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
নির্বাচিত হলে প্রথম ৩০ দিনে ওয়ার্ডভিত্তিক মতবিনিময় ও সমস্যা মানচিত্র; ৩১–৬০ দিনে অগ্রাধিকার তালিকা ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয়; এবং ৬১–১০০ দিনে অনুমোদন ও বরাদ্দসাপেক্ষে বাস্তবায়নযোগ্য ছোট কাজ শুরু, নাগরিক অভিযোগ রেজিস্টার ও তথ্য বোর্ড চালু এবং একটি ‘১০০ দিনের প্রতিবেদন’ প্রকাশের প্রস্তাব রয়েছে।
প্রস্তাবিত রূপরেখায় নির্দিষ্ট ব্যয় বা প্রকল্প সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি। বাস্তবায়ন ইউনিয়ন পরিষদের আইনগত ক্ষমতা, জনগণের মতামত, সরকারি অনুমোদন, প্রাপ্ত বরাদ্দ এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সহযোগিতার ওপর নির্ভর করবে।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/188140