ফ্রান্সের আগুনে যেভাবে ‘আলু পোড়া’ খেতে চান ট্রাম্প
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে তীব্র রাজনৈতিক চাপের মুখে থাকা রিপাবলিকানদের সমর্থন ধরে রাখতে ফ্রান্সের বিক্ষোভকে প্রচারের হাতিয়ার করছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার নির্বাচনী সভা-সমাবেশে ফ্রান্সে চলমান আন্দোলনকে অভিবাসন এবং পশ্চিমা সভ্যতার ‘অবক্ষয়ের বিপদ’ হিসেবে তুলে ধরছেন তিনি।
কয়েক সপ্তাহ আগেই ফ্রান্সে বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। শিক্ষকসংকট, জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির অস্বচ্ছ পদ্ধতির প্রতিবাদে রাস্তায় নামেন ফ্রান্সের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যে দেশটির অন্যতম বৃহৎ শ্রমিক সংগঠন সিজিটি আন্দোলনটির প্রতি সমর্থন জানিয়ে দ্রব্যমূল্য কমানো, পেনশন বাড়ানো ও মজুরি বৃদ্ধির দাবি তোলে।
পরবর্তীত দেশজুড়ে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও অন্যান্য অর্থনৈতিক অসন্তোষও যুক্ত হয় আন্দোলনে।
এতে ফ্রান্সজুড়ে দেখা দিয়েছে তীব্র অগ্নুৎপাত। কিন্তু এই পরিস্থিতিকে অভিবাসনবিরোধী কঠোর নীতির পক্ষে যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার দল রিপাবলিকান পার্টির নেতারা।
ফ্রান্সের অগ্নিশিখায় মার্কিন নির্বাচন
গত শনিবার ফ্রান্সজুড়ে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়। কয়েকটি শহরে তা লুটপাট ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
এতে ঐতিহাসিক একটি নগর ভবনে আগুন দেওয়া হয় এবং প্রায় ১ হাজার ৮০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার ফ্রান্সের কয়েকটি শহরে, এমনকি প্যারিসের কিছু এলাকাতেও রাতে কারফিউ জারি করা হয়।
স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস অঙ্গরাজ্যে এক নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, একসময়ের মহান দেশ ফ্রান্সকে লুট করে এবং পুড়িয়ে ছারখার করে দিয়েছে অভিবাসী, জিহাদি এবং কমিউনিস্টরা। তিনি বলেন, ‘এই (মধ্যবর্তী) নির্বাচনে কী ঝুঁকির মুখে রয়েছে, তা দেখতে চাইলে ফ্রান্সে কী ঘটছে, সেদিকে তাকান।’
সমাবেশে ট্রাম্প আরো বলেন, ‘ফ্রান্সে যা ঘটছে, তারা আমাদের দেশেও তা ঘটাতে চায়।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর সমালোচনা করেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মাখোঁকে তিনি বড় ভুল করার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। ট্রাম্পের ভাষ্য, ‘পুরো বিশ্ব সেখানে ঢুকে পড়ছিল। আপনারা জানেন, প্যারিস খুব শিগগিরই একটি মুসলিম শহরে পরিণত হবে, আর চুক্তিটা এমন ছিল না।’ তিনি আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সীমান্ত বন্ধ করেছে, কিন্তু মাখোঁ তা করেননি।
এর আগে সামাজিকযোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প দাবি করেন, অভিবাসীরা ফ্রান্সের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে। দেশটির নেতাদের উদ্দেশে তিনি লেখেন, ‘দ্রুত সীমান্ত বন্ধ করুন।’
এদিকে ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় একটি ঐতিহাসিক ও শিল্পসমৃদ্ধ শহর লিমোজের ঐতিহাসিক নগর ভবনে আগুন লাগার একটি ভিডিও শেয়ার করে দেশটিতে সহিংসতার জন্য উদারপন্থীদের ব্যর্থতাকে দায়ী করেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
তার দাবি, পশ্চিমা উদারপন্থীরা ফ্রান্সে তৃতীয় বিশ্বের মানুষকে নিয়ে এসেছে এবং অভিবাসীদের আত্মীকরণ ও সামাজিক সামঞ্জস্যের মৌলিক প্রশ্নগুলো উপেক্ষা করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন বলেন, উন্মুক্ত সীমান্তের নীতি অনুসরণ করায় ফ্রান্স বিশৃঙ্খলার দিকে যাচ্ছে। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সমাজতান্ত্রিক ডেমোক্র্যাটরাও একই পথে এগোচ্ছেন। সিনেটর এরিক স্মিটও ফ্রান্সের পরিস্থিতির জন্য বামপন্থীদের দায়ী করেন।
তবে ইউরোপের অন্যান্য দেশেও তরুণেরা একই ধরনের সংকটের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছেন। স্পেন, পর্তুগাল ও ইতালিতে শিক্ষায় অপর্যাপ্ত অর্থায়ন, আবাসন ব্যয় এবং জীবনযাত্রার মান কমে যাওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়েছে।
রিপাবলিকান নেতারা আপাতত ফ্রান্সের পরিস্থিতির ওপরই মনোযোগ ধরে রাখতে চান। জাতীয় পরিচয় হুমকির মুখে—এমন বক্তব্যের মাধ্যমে তারা ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ আন্দোলনের পক্ষে সমর্থন জোরদার করতে চাইছেন।
ভ্যান্স মার্কিন ভোটারদের ফ্রান্সের পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আপনারা ভোট দেওয়ার সময় আশা করি বিষয়টি খেয়াল রাখবেন। এটাই সেই ভবিষ্যৎ, যা ডেমোক্র্যাটরা আপনাদের দেশের জন্য চান।’
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/188103