শত্রুর অনিষ্ট থেকে বাঁচার দোয়া

শত্রুর অনিষ্ট থেকে বাঁচার দোয়া

শত্রুর শত্রুতা, হিংসা, ষড়যন্ত্র এবং অপ্রত্যাশিত বিপদ-আপদ মানবজীবনের স্বাভাবিক শান্তির আবহকে ব্যাহত করে। ইসলামে যে কোনো ভয়, সংকট ও শত্রুতার বিপরীতে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা এবং মাসনুন দোয়ার মাধ্যমে তাঁর সুরক্ষাবলয়ে আশ্রয় নেওয়ার দিকনির্দেশনা রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উম্মতকে এমন একটি সার্বিক সুরক্ষার দোয়া শিখিয়েছেন, যা নিয়মিত পাঠ করলে কঠিন বালা-মুসিবত, অশান্তি ও দুর্ভাগ্যের পাশাপাশি শত্রুর অনিষ্ট থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

শত্রুর অনিষ্ট থেকে বাঁচার দোয়া:

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ جَهْدِ الْبَلَاءِ، وَدَرَكِ الشَّقَاءِ، وَسُوءِ الْقَضَاءِ، وَشَمَاتَةِ الْأَعْدَاءِ

বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজু বিকা মিন জাহদিল বালাই, ওয়া দারকিশ শাকাই, ওয়া সুইল কদাই, ওয়া শামাতাতিল আ’দা।

বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমি আপনার কাছে কঠিন বালা-মুসিবত, দুর্ভাগ্যে নিপতিত হওয়া, তকদিরের মন্দ পরিণতি এবং শত্রুর আনন্দ-শত্রুতা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। (সহিহ বুখারি: ৬৩৪৭)

দোয়াটির বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও তাৎপর্য

এই সংক্ষিপ্ত দোয়ার ভেতরে রাসুলুল্লাহ (সা.) দুনিয়া ও আখেরাতের যাবতীয় অনিষ্ট থেকে সুরক্ষার আকুতি উপস্থাপন করেছেন:

  • জাহদুল বালা (কঠিন পরীক্ষা): এমন চরম মানসিক বা শারীরিক সংকট, যা সহ্য করা মানুষের পক্ষে অসম্ভব হয়ে ওঠে এবং যা মানুষকে ঈমানী দুর্বলতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।
  • দারকুশ শাকা (দুর্ভাগ্যের স্পর্শ): দুনিয়ার জীবনে ঈমান ও আমল ধ্বংস হওয়া কিংবা আখেরাতে চরম ব্যর্থতা ও দুর্ভাগ্যের মুখোমুখি হওয়া থেকে রক্ষা পাওয়া।
  • সুউল কfদা (মন্দ ফয়সালা): তকদিরের এমন কোনো ক্ষতিকর বা অপ্রিয় পরিণতি থেকে আত্মরক্ষা, যা মানুষের জীবনকে বিপর্যস্ত করে তোলে।
  • শামাতাতুল আদাহ (শত্রুর উল্লম্ফন): নিজের কোনো ক্ষতি বা বিপদে শত্রুপক্ষ আনন্দিত হওয়ার সুযোগ পাওয়া। কোনো ঈমানদারের বিপদে শত্রুর এই উপহাস সহ্য করা অত্যন্ত পীড়াদায়ক; তাই রাসুলুল্লাহ (সা.) এটি থেকেও আল্লাহর আশ্রয় চেয়েছেন।

নিয়মিত আমলের নিয়ম ও আদব

দৈনন্দিন জীবনে সম্পূর্ণ নিরাপত্তা ও স্থিরতা বজায় রাখতে এই দোয়াটির চর্চা অত্যন্ত ফলপ্রসূ:

  • সকাল-সন্ধ্যার জিকির: প্রতিদিন সকালে ও বিকেলে অন্য মাসনুন দোয়ার সঙ্গে এটি ৩ বার পাঠ করা উত্তম।
  • নামাজের শেষ বৈঠক: ফরজ বা নফল নামাজের শেষ তাশাহহুদ ও দরুদ পাঠের পর সালাম ফেরানোর পূর্বে এই দোয়া পাঠ করার বিশেষ ফজিলত রয়েছে।
  • ভয় ও শঙ্কার মুহূর্ত: শত্রুর কোনো ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা তৈরি হলে কিংবা হঠাৎ মন অস্থির হয়ে উঠলে একনিষ্ঠভাবে কায়মনোবাক্যে দোয়াটি বারবার জপ করা উচিত।

সম্পর্কিত সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. শত্রুর ভয় বা অন্যায় আচরণ থেকে বাঁচতে আর কোন দোয়া পাঠ করা যায়?

শত্রুর সামনাসামনি ভয় বা কোনো অন্যায়ের আশঙ্কা হলে রাসুলুল্লাহ (সা.) এই দোয়াটি পড়তেন:

বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্না নাজআলুকা ফি নুহুরিহিম, ওয়া নাউজু বিকা মিন শুরুরিহিম।

বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! আমরা আপনাকে শত্রুদের মুখোমুখি করছি এবং তাদের অনিষ্ট থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি

২. শত্রুর ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে কোরআনের কোন সুরাগুলো কার্যকর?

সকাল-সন্ধ্যা তিন কুল অর্থাৎ সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাস তিনবার করে নিয়মিত পাঠ করলে সর্বপ্রকার হিংসা, চোখ লাগা, জাদু এবং শত্রুর গোপন চক্রান্ত থেকে সুরক্ষা মেলে।

আব্দুল্লাহ ইবনে খুবাইব (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) আমাকে বলেছেন, সকালে ও সন্ধ্যায় সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাস তিনবার করে পড়ুন, এ আমল প্রতিটি (ক্ষতিকর) জিনিস থেকে নিরাপত্তার জন্য যথেষ্ট হবে। (সুনানে আবু দাউদ: ৫০৮২)

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/187991