কুড়িগ্রামের উলিপুরে আমন ধানে ছাতরা পোকার আক্রমণ, ফলন নিয়ে শঙ্কায় কৃষক
উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের উলিপুরে আমন ধানের ক্ষেতে ছাতরা পোকার (মিলিবাগ) আক্রমণ দেখা দিয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ধানক্ষেতে এ পোকার বিস্তার বাড়ায় ফলন নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন কৃষকেরা। আক্রান্ত জমিতে বিভিন্ন ধরণের বালাইনাশক প্রয়োগ করেও কাক্সিক্ষত সুফল না পাওয়ার অভিযোগ তাদের। ধানগাছের পাতা হলুদ হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে। এতে আমন ধানের উৎপাদন নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকেরা।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকার আমনক্ষেত ঘুরে দেখা যায়, আক্রান্ত ধানগাছের কাণ্ড ও পাতার খোলে সাদা তুলা বা মোমের মতো আবরণ তৈরি হয়েছে। এর নিচে ছোট ছোট ছাতরা পোকা অবস্থান করছে। আক্রান্ত গাছের পাতা প্রথমে হলুদ হয়ে যাচ্ছে, পরে পোড়াভাব নিয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে। কোনো জমিতে ধানগাছের বড় অংশ হলুদ হয়ে পড়েছে। এতে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর উলিপুরে ২৪ হাজার ৬৬০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে হাইব্রিড জাতের ১ হাজার ৫৭০ হেক্টর, উচ্চ ফলনশীল (উফশী) জাতের ২১ হাজার ৮৭৫ হেক্টর এবং স্থানীয় জাতের ১ হাজার ২১৫ হেক্টর জমিতে ধান রোপণ করা হয়েছে।
উলিপুর পৌরসভার নারিকেল বাড়ি গ্রামের কৃষক হাফিজুর রহমান বলেন, তার জমিসহ এলাকার অনেক কৃষকের ধানক্ষেতে এ পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। তবে তিনি এখনো কোনো বালাইনাশক প্রয়োগ করেননি। পুরো জমি পর্যেবক্ষণ না করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।
ধামশ্রেণী ইউনিয়নের কাশিয়াগাড়ী গ্রামের কৃষক লাল মিয়ার ২০ শতক এবং ধরণীবাড়ী ইউনিয়নের সাতকুড়ার পাড় গ্রামের কৃষক মজিদ মিয়ার ২৫ শতক জমিতেও একই ধরণের আক্রমণ দেখা দিয়েছে।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, ছাতরা পোকা কোনো রোগ নয়, এটি ধানগাছের রস শোষণকারী ক্ষতিকর পোকা। এর আক্রমণে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং পাতা হলুদ হয়ে যায়। আক্রমণ তীব্র হলে গাছ শুকিয়েও যেতে পারে। আগের বছরগুলোতে এ এলাকায় আমন ধানের ক্ষেতে এ পোকার উপস্থিতি তেমন দেখা যায়নি বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবু ফাত্তাহ্ মো. রওশন কবির বলেন, খরার কারণে জমিতে ছাতরা পোকার আক্রমণ বাড়তে পারে। এ পোকা দমনে মাঠপর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
পাশাপাশি কৃষকদের সচেতন করতে লিফলেট বিতরণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চলছে। কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক সময়ে অনুমোদিত বালাইনাশক প্রয়োগ করলে এ পোকা দমন করা সম্ভব বলে জানান তিনি।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/187649