অমুসলিমদের উৎসবে মুসলমানদের আচরণ যেমন হবে
এ দেশের মানুষের ভিতর যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সহনশীলতা রয়েছে, পৃথিবীজুড়ে এর দৃষ্টান্ত বিরল। এই সম্প্রীতির মাঝেও যে নানা সময়ে সাম্প্রদায়িক ভুল-বোঝাবুঝি হয়নি, তা বলা যাবে না। তবে এ দেশে ধর্মের নামে যত অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটেছে, খোঁজ নিলে দেখা যাবে, সেগুলো যতটা না ধর্মীয়, তার চেয়ে বেশি রাজনৈতিক। অধিকাংশ সময় ধর্মের লেভেল ব্যবহার করে অশান্তি উসকে দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লুটেছে কিছু অসাধু ব্যক্তি।
এই সমস্যাটুকু বাদ দিলে আন্তধর্মীয় সম্প্রীতি ও অসাম্প্রদায়িকতা এই ভূখণ্ডের চিরায়ত ঐতিহ্য।
মহান আল্লাহ বলেছেন, দীনের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদের বাড়িঘর থেকে বের করে দেয়নি, তাদের প্রতি সদয় ব্যবহার করতে এবং তাদের প্রতি ন্যায়বিচার করতে আল্লাহ তোমাদের নিষেধ করছেন না। নিশ্চয় আল্লাহ ন্যায়পরায়ণদের ভালোবাসেন (মুমতাহিনা) এই আয়াতে মহান আল্লাহ অমুসলিমদের সঙ্গে আমাদের আচরণের নীতিমালা সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। তাই সাধারণ অবস্থায় অমুসলিমদের সঙ্গে স্বাভাবিক সামাজিক সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।
নবীজি (সা.) একবার একটি লাশ দেখে দাঁড়ালেন। তাঁকে বলা হলো, হে আল্লাহর রসুল, এটা তো এক ইহুদির লাশ। তখন নবীজি (সা.) বললেন, সে কি মানুষ নয় (বোখারি, মুসলিম)! তাই মানুষ হিসেবে মানুষের যে মর্যাদা, সে যে ধর্মেরই হোক, তাকে সেটা দিতে হবে। এটা নবীজি (সা.)-এর শিক্ষা।
তবে অতি উদারতা দেখাতে গিয়ে আপন ধর্মের নিজস্বতা ও স্বতন্ত্রবোধ সম্পর্কে আমরা যেন উদাসীন না হই, সে দিকটাও খেয়াল রাখতে হবে। ইসলাম আমাদের উদার হতে বলেছে, কিন্তু উদাসীন হতে নয়। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পূজার সময় অনেকে উদারতার নামে উদাসীন হয়ে পড়েন। অনেকের মুখে বলতে শোনা যায়, ধর্ম যার যার উৎসব সবার। মজার ব্যাপার হলো, এই স্লোগানের প্রবক্তাগণ শুধু পূজার সময়ই এই স্লোগান দেন।
ইসলামের দুই ধর্মীয় উৎসব, রোজা এবং কোরবানির ঈদে তারা এই স্লোগান দেন না। এতেই বোঝা যায়, এই স্লোগানের পেছনে তাদের বিশেষ মতলব রয়েছে। তবে হ্যাঁ, আমরা চাই না, আমাদের ঈদে অন্য ধর্মের মানুষ অংশ নিক। এটা অন্যের ওপর ধর্ম চাপিয়ে দেওয়ার নামান্তর।
কেন আমরা হিন্দুদের পূজার উৎসবে অংশ নিতে পারি না? এর কারণ, পূজার প্রধান আনুষ্ঠানিকতাই হলো শিরক। যা ইসলাম ধর্মের সবচেয়ে বড় পাপ। মহান আল্লাহ বলেছেন, নিশ্চয় আল্লাহর সঙ্গে শরিক করা মহা অন্যায় (সুরা লোকমান)। তিনি অন্যত্র বলেছেন, নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর সঙ্গে শরিক করাকে ক্ষমা করেন না। তিনি ক্ষমা করেন এ ছাড়া অন্যান্য পাপ, যা তিনি চান (সুরা নিসা)।
হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা তাদের ধর্মীয় প্রথা অনুযায়ী পূজা করবে, সেখানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার শিক্ষা ইসলাম আমাদের দেয়নি। কিন্তু এখানে যেহেতু শিরক হয়, তাই তাদের ধর্মীয় উৎসবে আমরা কোনোভাবেই শরিক হতে পারি না।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/187581