লক্ষ্মীপুরে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকার, ১৪ জেলের কারাদণ্ড

লক্ষ্মীপুরে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকার, ১৪ জেলের কারাদণ্ড

লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীতে ইলিশ আহরণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরার সময় ১৫ জেলেকে আটক করেছে মৎস্য বিভাগ ও কোস্ট গার্ড। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১৪ জেলেকে ১৬ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং অপর এক জেলেকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

গতকাল বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুর পর্যন্ত মেঘনা নদীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়। পরে রায়পুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ দণ্ডাদেশ দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আজিজুন নাহার।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন।

তিনি জানান, ৮ অক্টোবর থেকে ১৫ অক্টোবর দুপুর পর্যন্ত আট দিনে ৭৭টি অভিযান ও সাতটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ৪৯ জেলেকে আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে ২২ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে এবং অন্যদের কাছ থেকে ৫৪ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এ ছাড়া নিয়মিত ২৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

অভিযানকালে ১০টি নৌকা, একটি স্পিডবোট ও ১ হাজার ৬০০ কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়েছে।

কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ১৪ জেলে হলেন—রবিউল ইসলাম খাঁন (২৫), কবির শিকদার (২৬), মিজানুর রহমান (১৮), রিপন বেপারী (২৮), কামাল হোসেন (৩০), রাসেল সরদার (২৬), মোহাম্মদ আলী (৩৫), রাসেল চৌকিদার (২৮), খলিল বাগা (২৫), আবুল কালাম (১৯), সাইফুল বাগা (১৮), ইয়াসিন হাওলাদার (১৮), খলিল ফকির (১৮) ও রবিউল দেওয়ান (১৯)। অপর জেলে আবু বকর সিদ্দিককে (২১) ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

আটক জেলেরা লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়ন, চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলা এবং বরিশালের হিজলা উপজেলার দেবগা, চরমেমান্য, বাবরা মসজিদ, চরইন্দ্রুরিয়া, চরলক্ষী ও চরভৈরবী এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

এর আগে মেঘনা নদীর আজগর সওদাগরের চর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৫ জেলেকে আটক এবং চারটি মাছ ধরার নৌকা জব্দ করে মৎস্য বিভাগ ও কোস্ট গার্ড।

রায়পুর উপজেলার নবাগত ইউএনও আজিজুন নাহারের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহফুজুল হাসনাইন, কোস্ট গার্ডের পেটি অফিসার ও কন্টিনজেন্ট কমান্ডার সফিকুল ইসলাম, ফাঁড়ি পুলিশের সদস্য এবং উপজেলা মৎস্য বিভাগ ও কোস্ট গার্ডের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ইউএনও আজিজুন নাহার বলেন, ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় সরকার ২২ দিনের জন্য ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এ সময় নদী ও সাগরে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাত এবং ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ।

তিনি আরও বলেন, সরকারি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে নদীতে নিয়মিত অভিযান চালানো হবে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ মাছ ধরলে তাঁর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন লক্ষ্মীপুরসহ সারা দেশে ইলিশ আহরণ বন্ধ রয়েছে। এ সময়ে মা ইলিশ নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়ার সুযোগ পাবে, যা ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি ও মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/187531