কাল থেকে শুরু হচ্ছে শারদীয় দুর্গাপূজা
ঢাকের বোল, শাঁখের মঙ্গলধ্বনি আর কাঁসর ঘণ্টার নিনাদে ধীরে ধীরে উৎসবের রঙে রঙিন হয়ে উঠছে চারপাশ। বছর ঘুরে আবারও মর্ত্যলোকে আগমন ঘটছে দুর্গতিনাশিনী দশভুজা দেবী দুর্গার। দেবীর আগমনী বার্তায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরে ঘরে বইছে আনন্দের হিল্লোল, পূজামণ্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। আজ দেবীর বোধনের মধ্য দিয়ে সূচনা হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। আগামীকাল শুক্রবার থেকে সারা দেশে মহাসমারোহে শুরু হবে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। ভক্তি, আনন্দ আর সম্প্রীতির আবহে দেবীবন্দনায় মুখর হয়ে উঠবে বাংলার জনপদ।
প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, মহাষষ্ঠী থেকে বিজয়া দশমী পর্যন্ত পাঁচ দিন ধরে দুর্গাপূজা উদযাপিত হলেও এ বছর মহাসপ্তমীর তিথি দুদিন পড়ায় উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা চলবে ছয় দিন ধরে। সূচি অনুযায়ী, আগামী শনিবার মহাসপ্তমী, রোববার অধিক পূজা, সোমবার মহাষ্টমী ও কুমারী পূজা এবং মঙ্গলবার মহানবমীর আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হবে। বুধবার বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে শারদীয় দুর্গোৎসব। সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস ও পঞ্জিকা অনুযায়ী, জগতের কল্যাণ কামনায় এবার ঘোড়ায় চড়ে মর্ত্যে আগমন করবেন দেবী দুর্গা। পূজা শেষে নৌকায় চড়ে স্বর্গলোকে ফিরে যাবেন তিনি।
এদিকে নির্বাহী আদেশে এবার দুর্গাপূজার ছুটি তিন দিন করেছে সরকার। সাপ্তাহিক শুক্র ও শনিবারের ছুটির সঙ্গে সরকারি ছুটি যুক্ত হওয়ায় ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের ছুটি উপভোগ করবেন সংশ্লিষ্টরা। দুর্গোৎসব উপলক্ষে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি পূজামণ্ডপের জন্য সরকারি অনুদানও বাড়ানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় সরকারি অনুদানের পরিমাণ ৪ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা করা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার পূজামণ্ডপের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৫০০টি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩ হাজার ৮৫১টিতে। এ ছাড়া পূজামণ্ডপগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
গত ১০ অক্টোবর বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মহালয়া উদযাপন করেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীপক্ষের সূচনা এবং দেবী দুর্গার আগমনের বার্তা ছড়িয়ে পড়ে।
ধর্মীয় উৎসবের পাশাপাশি দুর্গাপূজা বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ উৎসব হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মের মানুষকে আনন্দ ও সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ করে। পারস্পরিক সৌহার্দ্য, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে প্রতিবছরের মতো এবারও শারদীয় দুর্গোৎসব হয়ে উঠবে মিলন ও আনন্দের এক সর্বজনীন আয়োজন।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/187481