নিত্যপণ্যের বাজারে দেশব্যাপী অভিযান, ৪২ জেলায় ১২০ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
ফল, ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে মূল্য কারসাজি, অতিরিক্ত দাম আদায় ও সরবরাহে অনিয়ম ঠেকাতে দেশব্যাপী বিশেষ তদারকি অভিযান পরিচালনা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
সোমবার (১২ অক্টোবর) ঢাকা মহানগরসহ দেশের ৪২ জেলায় পরিচালিত অভিযানে ভোক্তা অধিকারবিরোধী বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে ১২০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে মোট ৮ লাখ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, নিত্যপণ্যের বাজারে মূল্য স্থিতিশীল রাখা, সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা এবং ভোক্তাদের ন্যায্যমূল্যে পণ্য কেনার সুযোগ নিশ্চিত করতেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এদিন অধিদপ্তরের ৫৬টি টিম একযোগে দেশের বিভিন্ন এলাকার পাইকারি ও খুচরা বাজারে তদারকি কার্যক্রম চালায়।
অভিযানকালে ফল, ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বিক্রয়মূল্য, ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার, মূল্যতালিকা প্রদর্শন এবং ওজন ও পরিমাপের যথার্থতা যাচাই করা হয়। একই সঙ্গে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি, অতিরিক্ত দাম আদায় ও পণ্যের সরবরাহে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির মতো অনিয়ম প্রতিরোধে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়।
বিশেষ করে ফলের বাজারে ভোক্তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পচা বা নষ্ট ফল ভালো ফলের সঙ্গে মিশিয়ে বিক্রি এবং ফলে ক্ষতিকর রাসায়নিক বা অননুমোদিত পদার্থ ব্যবহারের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়। পাশাপাশি ন্যায্য ও যৌক্তিক মূল্যে ফল বিক্রি এবং পণ্যের মান বজায় রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলা হয়েছে, বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অযৌক্তিক মজুদ কিংবা পণ্যের স্বাভাবিক সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা যাবে না। প্রতিটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে দৃশ্যমান স্থানে হালনাগাদ মূল্যতালিকা প্রদর্শন, ক্রয়-বিক্রয়ের যথাযথ ভাউচার সংরক্ষণ এবং সঠিক ওজন ও পরিমাপ নিশ্চিত করতে হবে।
এদিকে বাজারে কেনাকাটার ক্ষেত্রে ভোক্তাদেরও সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে অধিদপ্তর। পণ্য কেনার আগে মূল্যতালিকা যাচাই, সঠিক ওজন বুঝে নেওয়া এবং মোড়কজাত পণ্যের সর্বোচ্চ খুচরা বিক্রয়মূল্য, উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কেনাকাটার রশিদ সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত মূল্য আদায়, ওজনে কারচুপি, ভেজাল কিংবা অন্য কোনো প্রতারণার শিকার হলে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হটলাইন ১৬১২১ এ অভিযোগ জানাতে পারবেন ভোক্তারা।
অধিদপ্তর জানিয়েছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি প্রতিরোধ এবং স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী এ ধরনের তদারকি ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/187197