সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মুক্তিযোদ্ধা ভবনটি অকার্যকর
তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের তাড়াশে জাতীর শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মুক্তিযোদ্ধা ভবনটি অকার্যকর হয়ে পরে রয়েছে। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় অযত্নে-অবহেলায় ইতোমধ্যে ক্ষতি হয়েছে ভবনের অনেক মূল্যবান আসবাবপত্র ও ইলেকট্রিক সামগ্রীর। ফলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সুবিশাল ভবনটি অকার্যকর অবস্থায় পড়ে আছে।
জানা যায়, মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ ও বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে ভবনটি নির্মাণ করা হলেও মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়মিত যাতায়াত না থাকায় ভবনটি অকেজো হয়ে পড়ে আছে। স্থানীয় সরকার বিভাগ (এলজিইডি) তত্ত্বাবধানে ৩ কোটি ৭২ লাখ ১৩ হাজার টাকা ব্যয়ে তাড়াশ থানার উত্তরপাশে ৪ তলা বিশিষ্ট উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।
ভবনের প্রাথমিক খরচের যোগান দিতে প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় দোকান করা হয়েছে যা এখন পর্যন্ত বন্ধ রয়েছে। এছাড়া ৩ তলায় রয়েছে অফিস কক্ষ, বিশাল আকৃতির একটি কনফারেন্স রুম। অফিস কক্ষে রয়েছে উন্নত আসবাবপত্রসহ আধুনিক বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা।
ভবনের নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হলে ২০২৩ সালের ২৮ মে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। কিন্তু সারাবছর ভবন তালাবদ্ধ থাকে। ফলে অযত্ন-অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে ভবনসহ আসবাবপত্র। একইসাথে নির্মিত ভবনটি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকায় বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ অপচয় হচ্ছে।
তাড়াশ উপজেলা ক্রীড়াসংস্থার সাথে জড়িত এক ব্যক্তি জানান, তাড়াশ বাজারে নির্মিত ক্রীড়া সংস্থার বিল্ডিংটি মুক্তিযোদ্ধারা দীর্ঘদিন ধরে দখল করে রেখেছে। তাদের জন্য বিল্ডিং নির্মিত হলেও তারা এই বিল্ডিং ছেড়ে দিচ্ছে না। ফলে তাড়াশে ক্রীড়াবীদদের বসার কোন স্থান নেই।
তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুসরাত জাহান বলেন, মুক্তিযোদ্ধা ভবনের দোকানগুলো ইজারা দেওয়ার বিষয়ে ইতোমধ্যে উপজেলা কমিটির সভায় আলোচনা হয়েছে। খুব শিগগিরই প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মুক্তিযোদ্ধা ভবনের দোকানগুলো ইজারার বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে। এতে মুক্তিযোদ্ধা ভবনটি ব্যবহারযোগ্য হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের স্বার্থও সংরক্ষিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/187184