বগুড়া কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে সিটি কর্পোরেশনের অভিযান, স্বেচ্ছায় মালামাল সরিয়েছেন দোকানিরা
শহর প্রতিনিধি : বগুড়ার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে বগুড়া সিটি কর্পোরেশন। আজ সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল থেকে শুরু হওয়া অভিযানে সীমানা প্রাচীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা দোকান, প্রবেশমুখের খাবারের দোকান ও কয়েকটি সংগঠনের কার্যালয় ভাঙা হয়।
সিটি কর্পোরেশনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাহাঙ্গীর আলম বাবুর নেতৃত্বে অভিযানে অংশ নেন বগুড়া পুলিশ লাইন্স এর রিজার্ভ পুলিশ, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বগুড়া জেলা শাখা এবং সিটি কর্পোরেশনের স্বেচ্ছাসেবক ও গার্ড বাহিনীর সদস্যরা।
শুরুর আগে হ্যান্ডমাইকে ঘোষণা দিয়ে আগের বেধে দেওয়া সময়ের পাশাপাশি আরও আধা ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়। বেলা ১১টার পর মূল অভিযান শুরু হয়। ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক থেকে টার্মিনালের প্রবেশমুখ পর্যন্ত তিনটি এক্সকেভেটর দিয়ে স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।
ভাঙা পড়ে মসজিদের পাশে সীমানা প্রাচীরসংলগ্ন পাকা দোকান, একটি মোবাইল কোম্পানির শোরুম, মিষ্টি ও দইয়ের দোকান, প্রধান ফটকের সামনের চা-সিগারেটসহ বিভিন্ন দোকান।
বগুড়া-নওগাঁ সড়কের পাশের অন্তত ২০টি ফল, হোটেল, মুদি ও ফ্লেক্সিলোডের দোকানের মালিকেরা নিজেরাই মালামাল সরিয়ে নেন। বাস চালক সমবায় সমিতি ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের টার্মিনাল শাখাসহ কয়েকটি শ্রমিক সংগঠনের কার্যালয়ও উচ্ছেদ হয়। টার্মিনালের অপর প্রবেশমুখের ভাতের হোটেল, চাকা মেরামত, ভলকানাইজিং ও তেল-মবিলের দোকানও সরানো হয়।
জাহাঙ্গীর আলম বাবু জানান, বিশ্বব্যাংকের রেসিডেন্ট আরবান অ্যান্ড টেরিটোরিয়াল ডেভলপমেন্ট প্রজেক্ট (আরইউটিডিপি) প্রকল্পের আওতায় টার্মিনালের আধুনিকায়ন করা হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে মূল অবকাঠামো ও ভূমি দৃশ্যমান করতে দখলদারদের বারবার মাইকিং করে জানানো হয়েছিল। ১১ অক্টোবর দ্বিতীয়বারের মতো মাইকিং করা হয়, আগেও মাইকিং ও ইজারদারকে নোটিশ দেওয়া হয়।
বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সহসভাপতি শফিকুল ইসলাম আরফান বলেন, সিটি কর্পোরেশনের নোটিশের ভিত্তিতে তারা অভিযানে সহযোগিতা করছেন। পর্যাপ্ত সময় পাওয়ায় দোকানিরা মালামাল সরিয়ে নিতে পেরেছেন।
দোকানিরা জানান, তারা নামে-বেনামে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে নিয়মিত ভাড়া ও মাসোয়ারা দিতেন। মাইকিংয়ের কথা শুনেছেন এবং টার্মিনালের ইজারদার ও মালিক সমিতির কর্তারা আগে থেকে জানানোয় নিজেরাই মালামাল সরিয়েছেন।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/187157