হুথিদের সাথে করা যে ভুলের খেসারত দিচ্ছে সৌদি আরব
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : দীর্ঘ ১১ বছর পর ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি আরব আবারও সরাসরি জড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কোন ভুল হিসাবের মাশুল দিতে হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের এ দেশটিকে? আজ কেন এই সংকটের মুখে পড়ল?
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকটের পেছনে রয়েছে বেশ কিছু ভুল হিসাব। প্রথমত, গত বছর সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের অংশীদারত্ব ভেঙে যায়। ইয়েমেনে আমিরাতি বাহিনী হুট করে সেনা প্রত্যাহার করে নেয়ায় সেখানে বিরাট ক্ষমতার শূন্যতা তৈরি হয়, যা সৌদিরা পূরণ করতে পারেনি।
দ্বিতীয়ত, গত জুলাইয়ে তেহরানে সর্বোচ্চ নেতার জানাজায় হুতি প্রতিনিধিদলকে নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি ইরানি বিমান সেখানে গেলে সানা বিমানবন্দরে হামলা চালায় সৌদি আরব। ফলস্বরূপ হুতিরা যুদ্ধবিরতি বাতিল করে। লোহিত সাগর ও সৌদির তেল অবকাঠামোতে হামলা শুরু করে তারা। কিন্তু হুতিদের এই আকস্মিক আক্রমণের জন্য সৌদি সামরিক বাহিনী ও তাদের স্থানীয় মিত্ররা মোটেও প্রস্তুত ছিল না।
তবে, তৃতীয় বড় ভুল হিসাবটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা। ওয়াশিংটনের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি থাকার পরও, সংকটের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই যুদ্ধে সরাসরি জড়াতে অস্বীকৃতি জানান। উল্টো যুক্তরাষ্ট্র ওমানে হুতিদের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করায় সৌদি আরব নিজেকে আরও একা ও অরক্ষিত বোধ করতে শুরু করে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে এখন সৌদি আরব মিসর, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য এবং সম্প্রতি তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তির মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। পরিশেষে একটি কথা বলাই যায়, বাইরের দেশের সমর্থন বা কিছু সামরিক সাফল্য পেলেও ইয়েমেনের এই সংঘাতে সৌদির দীর্ঘমেয়াদী স্বস্তি পাওয়া বেশ অনিশ্চিত। এর বড় কারণ বিভক্ত মিত্রবাহিনী এবং সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক সমাধানের অভাবে। এখন ইরান-সমর্থিত হুতিদের এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রিয়াদকে কোন পথে হাঁটতে হয়, সেটাই দেখার বিষয়। সূত্র : সিএনএন
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/187084