২০৩০ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য করতোয়া, ইছামতি ও গজারিয়া নদী উদ্ধারে ১,০৯৪ কোটির মহাপরিকল্পনা

২০৩০ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য করতোয়া, ইছামতি ও গজারিয়া নদী উদ্ধারে ১,০৯৪ কোটির মহাপরিকল্পনা

স্টাফ রিপোর্টার: করতোয়াসহ বগুড়ার তিন নদীকে ঘিরে মহাপরিকল্পনা গ্রহন করা হয়েছে। করতোয়া, ইছামতি ও গজারিয়া নদীর জন্য ১ হাজার ৯৪ কোটি৩৫ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। করতোয়া নদী সিস্টেম উন্নয়ন প্রকল্পের ৪ বছর মেয়াদী এই কাজ শেষ হবে ২০৩০ সালের জুনে। জুলাই মাসে এর প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে, অচিরেই কাজ শুরু হবে।

বগুড়া ও গাইবান্ধা জেলার অবহেলিত নদ-নদীগুলোর যৌবন ফেরাতে এবং দীর্ঘদিনের দখল-দূষণ রোধে বিশাল অংকের একটি মহাপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘করতোয়া নদী সিস্টেম উন্নয়ন প্রকল্প’-এর মাধ্যমে করতোয়া, ইছামতি ও গজারিয়া নদীর পুনরুজ্জীবন এবং তীর রক্ষা কাজ বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)-এর বাস্তবায়নে এই প্রকল্পের মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৯৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা (জিওবি অনুদান)। ২০২৬ সালের ১৬ জুন একনেক কর্তৃক অনুমোদিত এই প্রকল্পটি চলতি বছরের জুলাই মাস থেকে শুরু হয়ে ২০৩০ সালের জুন মাস পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে।

বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ, বগুড়া সদর, শাজাহানপুর, দুপচাঁচিয়া, আদমদীঘি, গাবতলী, ধুনট ও শেরপুর উপজেলা এবং রংপুর বিভাগের গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ওপর দিয়ে বিস্তৃত রয়েছে করতোয়া নদী।   করতোয়া, ইছামতি ও গজারিয়া নদীর পূনঃখননের মাধ্যমে করতোয়া নদী সিস্টেমকে সম্পূর্ণ পুনরুজ্জীবিত করা হবে।

গাইবান্ধা ও বগুড়া জেলায় প্রকল্প এলাকায় সেচ সুবিধা প্রদান, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ কর সম্ভব হবে এই প্রকল্প শেষ হলে। এই প্রকল্পের আওতায় বগুড়া শহরাংশে করতোয়ার ডান ও বাম তীরে স্লোপ প্রটেকশন কাজের মাধ্যমে নদীভাঙন রোধ এবং বিভিন্ন ঘরবাড়ি ও স্থাপনা রক্ষা করা যাবে।

 নদীগুলোকে অবৈধ দখল ও দূষণ থেকে রক্ষা করা, ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্বাসন এবং ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়িয়ে কৃষি উৎপাদন ও মৎস্য খাতের উন্নয়ন সাধন করা সম্ভব হবে। এই প্রকল্পের আওতায়  বগুড়া শহরাংশে করতোয়া নদীর উভয় তীরে ৬ কিলোমিটার।

কাটাখালী নদীর তীরে ১.৪৫০ কিলোমিটার. করতোয়া নদীর তীরে ১.৮০০ কিলোমিটার. এবং নাগর নদীর তীরে ৩৩৫ মিটার, (মোট ৩.৫৮৫ কিলোমিটার.)  তীর সুরক্ষা কাজ করা হবে। করতোয়া নদী ১৫ কিলোমিটার পুনর্খনন, নদী মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ ২৮ কিলোমিটার. গজারিয়া নদী পুনর্খনন ৩৫ কিলোমিটার. এবং ইছামতি নদী পুনর্খনন ৭২ কিলোমিটারসহ মোট নদীর দৈর্ঘ্য ২৩০ কিলোমিটার নদী খনন ও পুনর্খনন করা হবে।

প্রকল্পের আওতায় কাটাখালী নদীর তীরে ৯৯০ মিটার  বাধ নির্মাণ, ১টি পানি নিয়ন্ত্রণ কাঠামো নির্মাণ, ১২২টি ব্রিজের ফাউন্ডেশন ট্রিটমেন্ট এবং ২২.৭২ হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণ করা হবে। প্রকল্পটির ডীটেল সার্ভে কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দরপত্র আহ্বানের জন্য নির্ধারিত প্যাকেজের ১৪টি দরপত্র ইতিমধ্যে আহ্বান করা হয়েছে, যার মধ্যে ৫টি প্যাকেজের দরপত্র মূল্যায়ন কাজ চলমান রয়েছে এবং অন্যান্য প্যাকেজের দরপত্র আহ্বানের কাজও প্রক্রিয়াধীন।

এছাড়া সর্বমোট ৮৪টি প্যাকেজের মধ্যে (পণ্য- ২টি, কার্য- ৮১টি, সেবা- ১টি) এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৬৬টি প্যাকেজ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার কৃষি জমিতে সেচ প্রদান সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী হবে, যা খাদ্য উৎপাদনে বিপ্লব ঘটাবে।

নদীর প্রবাহ নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি নদীদূষণ হ্রাস পাবে এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পুনর্ভরাট করা সম্ভব হবে। এছাড়া এলাকার জননিরাপত্তা, জাতীয় অর্থনীতির উন্নয়ন, নদীকেন্দ্রিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানাদির পুনরুজ্জীবন এবং দারিদ্র্য বিমোচনের মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/187064