বগুড়ায় চোর সন্দেহে ইটভাটার শ্রমিক রিপনকে পিটিয়ে হত্যা, ৫ জনের নামে মামলা
স্টাফ রিপোর্টার : বগুড়ায় চোর সন্দেহে এইচএমবি ইট ভাটার শ্রমিক রিপন মুরমু (২৬)কে পিটিয়ে হত্যার পর লাশ এ্যাম্বুলেন্স যোগে গ্রামের বাড়ি দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে পাঠিয়ে দেয়ার ঘটনায় সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রিপন মুরমু’র বাবা মোসেশ মুরমু বাদি হয়ে এই হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় মোঃ রেজাউল করিম (৫৫), আবু তালহা সেলিম (৪০), ইটভাটার ম্যানেজার মামুন (৪২), মোঃ এনামুল হক (৩৫), মোঃ নাঈম হোসেন (১৯)সহ অজ্ঞাতনামা আরো ৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
স্থানিয় সূত্রে জানা গেছে, রিপন মুরমু (২৬) গত ৬ বছর যাবৎ বগুড়া সদর উপজেলার চন্ডিহারা এলাকার মোঃ আক্তার রহমান ডিউকের ইট ভাটার শ্রমিক হিসাবে কাজ করতেন শ্রমিকের কাজ করা ছাড়াও তিনি মেহেদুল হাসানের গ্যারেজে নাইট গার্ডের চাকরি করতেন।
এরমধ্যে বগুড়া সদরের চাঁনপাড়া আলোর মেলা স্কুলের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত গ্রিলসহ লোহার দরজা জানালা তৈরির দোকানে রাতে একটি ঝালাই মেশিন চুরির ঘটনা ঘটে। ওই চুরির ঘটনায় ৯ অক্টোবর সকাল ৮ টার দিকে প্রধান আসামি রেজাউল করিমসহ অন্যান্য আসামিরা রিপন মুরমুকে ডেকে এনে চুরির সন্দেহে মারপিট করে এবং ২০ হাজার টাকা জরিমানা দাবি করে।
জরিমানার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আসামিরা রিপন মুরমুরকে এলোপাথারিভাবে মারপিট করে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় আসামিরা তার খালা লিলি সরেনকে ডেকে এনে বলে যে, রিপনকে সন্ধ্যার মধ্যে ২০ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে, অথবা ঝালাই মেশিন বের করে দিতে হবে।
এসময় রিপন গুরুতর আহত অবস্থায় তার খালাকে জানায় যে, তার শরীর খুব খারাপ লাগছে। এরপর তিনি ইট ভাটার পাশেই তার রুমে চলে যান। কিন্তু সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে ভাটার ম্যানেজার মোঃ মামুন মিয়া অন্যান্যদের সাথে নিয়ে ইট ভাটার শোয়ার ঘরে এসে রিপন মুরমুকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।
মামলার এজাহারে আরও বলা হয়েছে, আসামিরা ওই দিন সকালে একত্রিত হয়ে চোর সন্দেহে মারপিট করে হত্যা করে রিপন মুরমুকে। তার মৃত্যুর ঘটনাটি ধাপাচাপা দেওয়ার জন্য আসামি সেলিম তার পরিচিত একটি এ্যাম্বুলেন্স দিয়ে লাশ তার বাড়িতে পাঠায়।
কিন্তু এ্যাম্বুলেন্স চালক মৃত্যু সম্পর্কে কোন তথ্য দিতে না পারলে লাশ নিতে অস্বীকৃতি জানান স্বজনরা। পরে চালক সিয়াম ইসলাম লাশ নিয়ে পুনরায় ওই ইটভাটায় আসে। এরপর সদর থানার পুলিশ খবর পেয়ে তার লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মাহফুজ আনাম বলেন, আজ রোববার (১১ অক্টোবর) ময়না তদন্তশেষে রিপন মুরমুরের লাশ তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তারা তার লাশটি বাড়ি নিয়ে গেছে। এঘটনায় সদর থানায় ৫ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে বলেও তিনি জানান।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/187053