দুই কিলোমিটার সড়ক নিয়ে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও হতাশা এলাকাবাসীর
লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের দু’টি ওয়ার্ডের মধ্যে কালিরহাট থেকে কাশিয়াবাড়ী পর্যন্ত সড়ক মাত্র দুই কিলোমিটার। স্বাধীনতার পর থেকে দীর্ঘসময় পেরিয়ে গেলেও এ সড়কটি পাকা বা সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
বছরের পর বছর ধরে স্থানীয়দের অভিযোগ আর আবেদন-নিবেদনের পরও সড়কের কোন উন্নতি না হওয়ায় চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছে এলাকাবাসী।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কটির কোথাও মাটি ধসে পড়েছে আবার কোথাও সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্তের। বর্ষায় পানি জমে চলাচল পুরোপুরি অনুপযোগী হয়ে পড়ে। আর কাদা-পানি উপেক্ষা করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীদের যেতে হয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।
স্থানীয়রা জানান, সড়কটি পাকা হলে এই এলাকার কৃষি, অর্থনীতি ও শিক্ষায় বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসতো। বর্তমানে এই ভাঙাচোরা সড়কে চলাচল করতে গিয়ে একটি প্রাইমারি স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সড়কটি গ্রীষ্মের প্রচণ্ড রোদে ধুলোয় আচ্ছন্ন থাকে।
আর বর্ষাকাল এলেই পরিণত হয় কাদা পানির মরণ ফাঁদে। আর কেউ অসুস্থ হলে রোগীকে কাঁধে বা হেঁটে কয়েক কিলোমিটার ঘুরিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিতে হয়। ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দা আরিফুল হক বলেন, আশপাশের সব সড়ক পাকা হয়, শুধু এই সড়কটিই অবহেলিত থেকে যায়।
আমরা চরম দুর্ভোগে রয়েছি। যেখানে যাতায়াতে দশ টাকা লাগার কথা, সেখানে যানবাহনের ভাড়া ৫০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। তার ওপর কয়েক কিলোমিটার পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়। কলেজ ছাত্র হাফিজুর রহমান বলেন, প্রায়ই এ সড়কে গাড়ি উল্টে পড়ে যায় বা রাস্তায় ফেঁসে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে। এতে মানুষের হাত-পা ভাঙছে, অনেকে গুরুতর আহত হচ্ছেন। বহুদিন ধরে রাস্তাটি পাকা করার দাবি জানানো হলেও কোনো কাজ হয়নি।
আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার গুঞ্জন বিশ্বাস বলেন, কালিরহাট ও কাশিয়াবাড়ি সড়কের দুই কিলোমিটার অংশের দুর্ভোগের বিষয়টি জানতে পেরেছি। রাস্তাটির কোড পড়েছে কিনা, তা চেক করে দেখব। এলাকাটি জনঘনত্বপূর্ণ হলে অবশ্যই রাস্তার কাজটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করব। যাতে জনগণের দুর্ভোগ না হয় এবং তারা সহজে চলাচল করতে পারে।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/187037