কাশফুলের টানে বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি

কাশফুলের টানে বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি

সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি : সারিয়াকান্দির বিভিন্ন চরাঞ্চলে কাশফুল ফুটেছে। কাশফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে উপজেলায় পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। নৌকার মাঝিদের আয় বেড়েছে এবং বিভিন্ন মুখরোচক দোকানের বেচা কেনা বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষকরা বিনা খরচে কাশফুলের গাছ বিক্রি করে লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।

নীল আকাশের বুকে সাদা মেঘের ভেলা, তার নীচেই সবুজের বুকে সাদা চাদরের মতো ছড়িয়ে রয়েছে এক অপরুপ সৌন্দর্য, দূর থেকে মনে হয় দূরে কোথাও সাদা মেঘ জমা হয়েছে দিগন্ত জোড়া, কাছে গিয়ে দেখা যায় দিগন্ত বিস্তৃত কাশফুল বাগানে রাশি রাশি কাশফুল ফুটেছে।

বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে কাশফুলের বীজসহ পাপড়িগুলো, যা মাটিতে ঝরে না পরে বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে পাখির মতো, এ যেন কোনও শীত প্রধান দেশে বরফ পরার দৃশ্য। আর এই অপরুপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রকৃতি প্রেমিরা ছুটে এসেছেন কাশবনে। ছুটির দিনে কাশবনে মিলিত হচ্ছেন হাজারো পর্যটক। এ চিত্র বগুড়া সারিয়াকান্দির বিভিন্ন চরাঞ্চলের।

উপজেলার কাজলা, চালুয়াবাড়ী, কর্ণিবাড়ী ও বোহাইল ইউনিয়নের সম্পূর্ণ এবং হাটশেরপুর, সারিয়াকান্দি সদর, চন্দনবাইশা, কুতুবপুর এবং কামালপুর ইউনিয়নের আংশিক প্রায় শতাধিক চরের কাশবাগানে কাশফুল ফুটেছে। যা যুগযুগ ধরেই চলে আসছে।

উপজেলার পৌর এলাকার কালিতলা গ্রোয়েনবাঁধে প্রতিবছর প্রায় লাখো পর্যটকদের আগমন ঘটে। কাশফুল দেখতে এ পর্যটন কেন্দ্রে এখন পর্যটকদের সংখ্যা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। পর্যটকরা নৌকায় যাতায়াত ৫০ টাকা করে ভাড়ার বিনিময়ে বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে কাশবাগানে যাচ্ছেন। এখানে একসাথে তারা যমুনা নদীর অপরুপ সৌন্দর্যও উপভোগ করছেন।

কাশবাগানে গিয়ে তারা কাশফুলের সাথে নিজেকে ক্যামেরাবন্দী করছেন। কখনো সেলফি তুলছেন, কখনো গ্রুপ ছবি তুলছেন। এখানে পর্যটকরা তাদের নিজেদের আত্মীয় স্বজনদের সাথে, বা কখনো পুরো পরিবার, কখনো নিজেদের পছন্দের মানুষ বা প্রিয়জনদের সাথে নিয়ে ঘুরতে এসেছেন। এসে তারা নিজেদের কাশফুলের সাথে ক্যামেরাবন্দী করতে ব্যস্ত সময় পার করেন।

কেউ কেউ একগুচ্ছ কাশফুল ছিঁড়ে নিয়ে যান বাড়িতে। বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার সময় কাশফুল ঝরে বাতাসে উড়ে এক অপরুপ সৌন্দর্য সৃষ্টি হচ্ছে সড়কে। কাশফুল সাধারণত বেশিদিন স্থায়ী হয়না। এটি সাধারণত সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে ফুল ফোটে এবং নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে ঝরে পরে যায়। এদিকে কাশবাগানে পর্যটকদের নিয়ে যেতে কালিতলা নৌঘাটের মাঝিদের দৈনিক আয়ও বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা ছুটির দিনে দৈনিক ৩ হাজার টাকা করে আয় করছেন।

অপরদিকে কালিতলা গ্রোয়েনবাঁধে বিভিন্ন ধরনের মুখরোচক খাবারের দোকানগুলোতেও বেচা কেনা আগের তুলনায় বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণত কাশফুলের গাছ আপনা-আপনি প্রকৃতি থেকেই হয়ে যায়। এটি উৎপন্ন করতে কৃষকদের কোনও বীজ বপন করতে হয়না এবং কোনও সার বা পরিচর্যা করতে হয়না। তাই কাশ উৎপাদনের জন্য কৃষকদের কোনও খরচ হয়না।

প্রতিবছর কাশফুলের গাছ বিক্রি করে চরাঞ্চলের কৃষকেরা মোটা অঙ্কের টাকা ঘরে তুলেন। কাশফুলের গাছগুলো দেশের বিভিন্ন এলাকায় পানের বরজে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া অন্যান্য নানাবিধ কাজে এ গাছ ব্যবহৃত হয়। কাশফুলের গাছের কোনও অংশই ফেলনার না, গাছ কাটার পর এর গোড়া বা নীচের কান্ড উৎকৃষ্ট জ্বালানি হিসেবে রান্নার কাজে ব্যবহৃত হয়।

বগুড়া নন্দীগ্রামের আশরাফুল ইসলাম জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে জানতে পেরে পরিবার এবং আশেপাশের বেশ কয়েকজন নিয়ে কাশবাগান দেখতে এসেছিলাম। যাতায়াত ৫০ টাকা করে কাশবাগানে গিয়ে একেবারেই মুগ্ধ হয়েছি।

যেদিকে দুচোখ যায় সেদিকেই শুধু কাশফুল আর কাশফুল। কাশফুলের সাথে প্রচুর ছবি তুলেছি এবং কিছু কাশফুল বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য উত্তোলন করেছি। কালিতলা নৌঘাটের নৌকার মাঝি আমিরুল ইসলাম বলেন, কাশবনের জন্য আমাদের আয় বেড়ে গেছে। আগে যেখানে দৈনিক ১ হাজার টাকা আয় করতে পারতাম না, এখন সেখানে ৩ হাজার টাকার বেশি আয় করছি। বাঁধের উপরে বিভিন্ন ধরনের দোকানিদের আয়ও কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।

সারিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আ ফ ম আসাদুজ্জামান বলেন, সারিয়াকান্দিতে দিগন্ত বিস্তৃত কাশফুল বাগান রয়েছে। তার জন্য কালিতলা গ্রোয়েনবাঁধে পর্যটকদের চাপ বেড়েছে। ছুটির দিনগুলোতে পর্যটকদের সামাল দিতে আমাদের পুলিশের টিম বিশেষভাবে কাজ করছে।

এ বিষয়ে পর্যটকদের প্রতি আমাদের নির্দেশনা হলো, তারা যেনো মাগরিবের নামাজের আগে কাশবাগান ত্যাগ করেন, যারা সাতার জানেন না তারা যেনো নৌকায় না চরেন এবং পানিতে না নামেন, কাশবনের একেবারে ভেতরে ঢোকা থেকে বিরত থাকতে হবে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/187032