রাজবাড়ীতে ধর্ষণ মামলায় আসামির যাবজ্জীবন, সন্তানের ২১ বছর পর্যন্ত দায়িত্ব নেবে রাষ্ট্র

রাজবাড়ীতে ধর্ষণ মামলায় আসামির যাবজ্জীবন, সন্তানের ২১ বছর পর্যন্ত দায়িত্ব নেবে রাষ্ট্র

রাজবাড়ীর পাংশায় বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের মামলায় মো. ফারুক হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ ভুক্তভোগী নারীকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ওই নারী ও ফারুকের সন্তান রাফিউল হোসেনের ২১ বছর বয়স পর্যন্ত ভরণপোষণের ব্যয় রাষ্ট্র বহন করবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

আজ রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে রাজবাড়ী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এবং জেলা ও দায়রা জজ মো. তৌহিদুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত ফারুক হোসেন পাংশা উপজেলার বাবুপাড়া ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর গ্রামের আহম্মদ খার ছেলে। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৮ সালের ৩০ মে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তালাকপ্রাপ্ত নারী  কে খোকসা রেলস্টেশনসংলগ্ন এক আত্মীয়ের বাসায় নিয়ে যান ফারুক। সেখানে প্রায় দুই মাস ধরে তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। পরে বিয়ের কাগজপত্র তৈরির কথা বলে রেখাকে ঢাকায় নিয়ে যান তিনি। সেখানে প্রায় ছয় মাস অবস্থানকালে বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে ধর্ষণ অব্যাহত রাখেন।

একপর্যায়ে রেখা গর্ভবতী হয়ে পড়লে ফারুক বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। এ সময় তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয় বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়। পরে রেখা বাড়িতে ফিরে আদালতে নালিশি দরখাস্ত করেন। আদালতের নির্দেশে পাংশা থানায় মামলাটি নথিভুক্ত হয়। তদন্ত শেষে পুলিশ ফারুকের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

পরবর্তী সময়ে রেখা একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। শিশুটির নাম রাফিউল হোসেন।

এদিকে আদালতের রায়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় ফারুকের বিরুদ্ধে আনা অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করেন।
রায়ে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আসামির বর্তমান সম্পদ থেকে জরিমানার অর্থ আদায় করা সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে অর্জিত সম্পদ থেকে তা আদায়ের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া রাফিউলকে ফারুকের জৈবিক সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তার আইনানুগ অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। সন্তানের ভরণপোষণের অর্থ নির্ধারণ ও তা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে রাজবাড়ীর জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রাফিউলের ২১ বছর বয়স পর্যন্ত ভরণপোষণের ব্যয় রাষ্ট্র বহন করবে।

রাজবাড়ী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) জাহিদ উদ্দিন মোল্লা বলেন, আদালতের এ রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ এবং সন্তানের ভরণপোষণ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন হয়েছে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/187001