আবারও বন্যার কবলে নেপাল
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আবার বন্যার কবলে পড়েছে নেপাল। এই বন্যায় ভাসিয়ে গেছে বেশ কয়েকটি বাড়ি, সেতু। বন্যাকবলিত এলাকা থেকে দ্রুত বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয় অন্যত্র। প্রাথমিকভাবে হতাহতের খবর এখনো মেলেনি। তবে নিখোঁজ রয়েছেন চারজন। নেপালের সংবাদমাধ্যম দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট জানিয়েছে এসব তথ্য।
সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেপালের গোর্খা জেলার উত্তরে বুড়ি গণ্ডকী নদীতে রবিবার ভোরের দিকে হড়পা বান আসে। আর তাতেই বিপত্তি। বন্যায় সল্লেরি, পাইয়ুকা এবং জগৎ এলাকার বাড়িঘর নদীগর্ভে ভেসে গেছে, জানিয়েছেন চুমুব্রি গ্রামীণ পৌরসভার তিন নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান রামকুমার গুরুং। শুধু তা-ই নয়, দুটি ঝুলন্ত সেতুও ভেসে যায় বলে জানান তিনি। তার ভাষায়, ‘ভোরে হঠাৎই বন্যা চলে আসে। আমরা আমাদের জিনিসপত্র ঘর থেকে বের করতে পারিনি। পানির শব্দ শুনেই আমারা সব ছেড়েছুড়ে পালিয়ে যাই।’
গোর্খার মুখ্য জেলা কর্মকর্তা ধর্মেন্দ্রকুমার মিশ্র বলেছেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি সিউরিবাসের ওপরে ভূমিধস নামে। তবে গণ্ডকী নদীতে পানি বেড়ে যাওয়ার কারণ এখনো স্পষ্ট নয়।’ বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, শনিবার রাতে ধস নেমে গোর্খা জেলার বুড়ি গণ্ডকী নদীতে অস্থায়ী লেক তৈরি হয়। রবিবার ভোর চারটার দিকে পানির চাপে সেই লেকের পাড় ফেটে হড়পা বান নামে।
নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং জানান, নদীর পানিস্তর ক্রমাগত বাড়তে থাকায় উদ্ধার কাজ, ত্রাণ বিতরণ এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য হেলিকপ্টার ওড়ানো হয়। স্থানীয় সূত্রে খবর, রবিবার ভোর চারটার দিকে বুড়ি গণ্ডকী নদীতে বিকট গর্জনের শব্দ শুনে তীরবর্তী বাসিন্দারা বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যান। শুধু তা-ই নয়, স্থানীয় হোটেলগুলি থেকে পর্যটকেরাও দূরে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
আর আগে আগস্টের শেষ দিকে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে আছড়ে পড়ে হড়পা বান। এতে অন্তত ১ হাজার ৫০০ মানুষের মৃত্যু হয়। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৬ হাজার মানুষ।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/186962