ইরান ফেরত পণ্যবাহী জাহাজে ভয়াবহ হামলা যুক্তরাষ্ট্রের

ইরান ফেরত পণ্যবাহী জাহাজে ভয়াবহ হামলা যুক্তরাষ্ট্রের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানের বিরুদ্ধে চলমান নৌ অবরোধ এড়ানোর চেষ্টা এবং বারবার সতর্কবার্তা উপেক্ষা করায় ওমান উপসাগরে একটি বাণিজ্যিক পণ্যবাহী জাহাজে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।

শনিবার (১০ অক্টোবর) পানামার পতাকাবাহী ‘এমভি ওশান মলিকা’ নামের জাহাজটির পেছনের অংশে নিখুঁত লক্ষ্যভেদী অস্ত্র দিয়ে আঘাত হানে একটি মার্কিন সামরিক যুদ্ধবিমান। জাহাজটি ‘আরিকা সান’ নামেও পরিচিত। সেন্টকমের এক বিবৃতিতে বলা হয়, এ হামলায় জাহাজটির চালিকাশক্তি বা প্রপালশন ব্যবস্থা পুরোপুরি অচল হয়ে গেছে, তবে নাবিকদের কোনো ক্ষতি হয়নি। এর আগে ইরানের একটি বন্দর ছেড়ে আসার পর জাহাজটি আঞ্চলিক জলসীমা অতিক্রমের চেষ্টা করছিল। 

সেন্টকম জানায়, গত ১৪ জুলাই ইরানের বন্দরে প্রবেশকারী বা সেখান থেকে বের হওয়া সব জাহাজের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ আবারও কার্যকর করে মার্কিন বাহিনী। তিন মাস ধরে কঠোরভাবে অবরোধ কার্যকরের সময় চারটি বাণিজ্যিক জাহাজ অচল করা হয়েছে এবং ১৩৫টি জাহাজকে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। একই সময়ে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ‘বহু বিলিয়ন ডলারের গোপন নেটওয়ার্কের’ সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১০টি তেলবাহী ট্যাংকারও ধ্বংস করেছে মার্কিন বাহিনী বলে জানিয়েছে সেন্টকম।

তবে এ সামরিক হামলার সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর ক্রিস মারফি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, ‘এসব কেন? বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালাতে করদাতাদের অর্থ থেকে কেন বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হচ্ছে?’ এদিকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে ‘অবৈধ পথে’ চলাচলের চেষ্টা করায় একটি জাহাজে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের আইআরজিসি। গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে নিজেদের অবরোধ কার্যকরের চেষ্টা করছে তেহরান।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি করে, ইরানি বাহিনী প্রণালিটির পরিচালনার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে কয়েক ঘণ্টা আগে ‘এনভি সানশাইন’ নামের একটি বিশাল তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) পরিবাহী জাহাজে হামলা চালানো হয়। ন্যাটউইটের মালিকানাধীন জাহাজটি হরমুজ প্রণালির দক্ষিণে অবস্থিত অবৈধ পথ দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করছিল।’

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/186953