বগুড়ার শহীদ জোব্বার ক্লাবের জায়গায় শিশু পার্ক নির্মাণ ও অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের দাবি

বগুড়ার শহীদ জোব্বার ক্লাবের জায়গায় শিশু পার্ক নির্মাণ ও অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের দাবি

স্টাফ রিপোর্টার: বগুড়া শহরের রহমাননগরের ‘শহীদ জোব্বার ক্লাব ও পাঠাগার’-এর জায়গায় শহীদের নামে একটি পূর্ণাঙ্গ শিশু পার্ক নির্মাণ এবং ক্লাবের জমি জালিয়াতির মাধ্যমে দখলের চেষ্টায় লিপ্ত ব্যক্তিদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন জলেশ্বরীতলা ও রহমাননগর এলাকার বাসিন্দারা।

আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় শহীদ জোব্বার ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এলাকাবাসী এই দাবি জানান। মানববন্ধন চলাকালে বক্তারা বলেন, বগুড়া শহরের সূত্রাপুর, রহমাননগর ও জলেশ্বরীতলা এলাকার সর্বসাধারণ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে এই জায়গাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বগুড়া সদর উপজেলার সূত্রাপুর মৌজার সাবেক দাগ নং-২৪০৪, হাল দাগ নং-৭৬৮৫-এর অন্তর্ভুক্ত ০.৯৫৫০ শতক জমিটি (এম.আর.আর খতিয়ান নং-১২১৭) মূলত অর্পিত/সরকারি সম্পত্তি। দীর্ঘকাল ধরে এই জায়গাটি স্থানীয় তরুণ ও শিশুদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা এবং শহীদ জব্বার ক্লাব ও পাঠাগার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী ও অসাধু চক্র ভুয়া ও জাল কাগজপত্র তৈরি করে সরকারি সম্পত্তিটি দখলের নানামুখী অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে। সম্প্রতি মো. রওশনুল হক ও মো. হারুন আর রশিদসহ কয়েকজন ব্যক্তি শিশু পার্ক ও ক্লাবের জন্য নির্ধারিত জায়গার একাংশে টিনের বেড়া দিয়ে অবৈধ দখলের চেষ্টা চালাচ্ছেন।

বর্তমানে ওই এলাকায় শিশুদের খেলাধুলা ও বিনোদনের জন্য উপযুক্ত কোনো স্থান নেই। পূর্বে স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে কিছু উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয় এবং শিশুদের বিনোদনের জন্য দোলনা ও ঢেঁকিসহ প্রাথমিক সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু স্থায়ীভাবে সীমানা নির্ধারণ না করায় অবৈধ দখলদারদের অপতৎপরতা থামেনি।

মানববন্ধন থেকে বক্তারা দাবি জানান, সূত্রাপুর মৌজার ওই জমির অবৈধ দখলদারদের অবিলম্বে উচ্ছেদ করে সরকারি সার্ভেয়ার দিয়ে সঠিক পরিমাপ ও সীমানা নির্ধারণপূর্বক স্থায়ী সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হোক। একই সাথে কোমলমতি শিশুদের সুস্থ বিকাশ ও বিনোদনের জন্য উক্ত স্থানে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘শিশু পার্ক’ গড়ে তোলা এবং ‘শহীদ জব্বার ক্লাব ও পাঠাগার’-এর কার্যক্রম বহাল রাখার জোর দাবি জানান তারা।

মানববন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন মো. জহুরুল হক, মো. নজরুল ইসলাম, সুশান্ত মল্লিক, আরিফুল ইসলাম, মাহমুদুলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/186894