চাঁদপুরে ২৩২ মণ্ডপে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি, নিরাপত্তায় বিশেষ নজর

চাঁদপুরে ২৩২ মণ্ডপে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি, নিরাপত্তায় বিশেষ নজর

চাঁদপুরের আট উপজেলায় ২৩২টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজার প্রস্তুতি চলছে। প্রতিমা নির্মাণ, রং-তুলির শেষ আঁচড়, প্যান্ডেল সাজানো ও আলোকসজ্জার কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিল্পী ও আয়োজকেরা। উৎসব নির্বিঘ্ন করতে মণ্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি এবং স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শহরের ঐতিহ্যবাহী কালীবাড়ি মন্দির, নতুন বাজার গোপাল জিউর আখড়া, পুরান বাজার হরিসভা মন্দির, নিতাইগঞ্জ পূজামন্দির ও রামকৃষ্ণ আশ্রম প্রাঙ্গণে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। খড় ও মাটির কাঠামোয় শিল্পীদের নিপুণ হাতে ফুটে উঠছে দেবী দুর্গা, সরস্বতী, লক্ষ্মী, কার্তিক ও গণেশের প্রতিমা। বিভিন্ন মণ্ডপে থাকছে নানা থিমের সাজসজ্জা, মানবিক মূল্যবোধ ও গুণীজনদের ছবি।

প্রতিমাশিল্পী জগবন্ধু পাল জানান, তিনি এবার ১২টি প্রতিমা তৈরির কাজ নিয়েছেন। তবে পাট ও মাটির দাম বেড়ে যাওয়ায় লোকসানের আশঙ্কা করছেন।

চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক বলেন, পূজা নির্বিঘ্ন করতে দলীয় নেতাকর্মীরা মণ্ডপ কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, সব মণ্ডপ সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারি বাড়িয়ে অপপ্রচার ঠেকাতে হবে। পৌরসভাকে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পূজামণ্ডপের আশপাশে কোনো মেলা বসতে দেওয়া হবে না। কিশোর গ্যাংয়ের ওপরও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, সবার সহযোগিতায় পূজা সুন্দরভাবে সম্পন্ন হবে। মণ্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের পাশাপাশি গুজব রোধে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত জেলাজুড়ে পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তমাল কুমার ঘোষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চাঁদপুর পৌরসভা ও সদর উপজেলায় ৪১টি, ফরিদগঞ্জে ২৩টি, হাইমচরে ছয়টি, হাজীগঞ্জে ২৯টি, মতলব দক্ষিণে ৩৯টি, মতলব উত্তরে ৩৬টি, কচুয়ায় ৩৯টি এবং শাহরাস্তিতে ১৯টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।

জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক বিনয় ভূষণ মজুমদার ও সদস্যসচিব অজিত সাহা জানান, আট উপজেলায় শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

পুরান বাজার হরিসভা মন্দিরের আয়োজক কার্তিক সরকার বলেন, গত দুই মাস ধরে সেখানে প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে। পূজার পাঁচ দিন ভক্তদের জন্য মহাপ্রসাদের ব্যবস্থা থাকবে। এবার চার থেকে পাঁচ লাখ দর্শনার্থীর সমাগম হবে বলে আশা করছেন আয়োজকেরা।

পঞ্জিকা অনুযায়ী, ১৫ অক্টোবর ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসব শুরু হবে। ২১ অক্টোবর প্রতিমা বিসর্জন ও বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে শারদীয় আয়োজন।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/186854