বিশ্বকাপে বেশি বিদ্বেষের শিকার আর্জেন্টিনা

বিশ্বকাপে বেশি বিদ্বেষের শিকার আর্জেন্টিনা

স্পোর্টস ডেস্ক : শেষ হওয়া ফিফা বিশ্বকাপ নিয়ে ফিফা একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদনের প্রকাশ করেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদ্বেষমূলক বার্তার প্রসঙ্গে। যে তালিকায় সবচেয়ে বেশি বিদ্বেষের শিকার আর্জেন্টিনা। আসরে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা যতই এগিয়েছে, এই বিদ্বেষের মাত্রা ততই বেড়েছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) দেশটির সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টসের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসের প্রাক্কালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সুরক্ষা পরিষেবা (এসএমপিএস) পরিচালিত এই গবেষণায় ২০২৬ সালের ৯ জুন থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এতে এক্স, ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক ও টিকটক থেকে সংগৃহীত ১ কোটি ৭১ লাখেরও বেশি পোস্ট ও মন্তব্য পর্যালোচনা করা হয়েছে।

আর্জেন্টিনার পর সবচেয়ে বেশি বিদ্বেষমূলক আক্রমণের শিকার হয়েছে ইংল্যান্ড, স্পেন, ব্রাজিল ও নরওয়ে। আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনিকে ঘিরে সমালোচনার বড় অংশজুড়ে ছিল কথিত রেফারিং-সুবিধা পাওয়ার অভিযোগ। অপরদিকে ব্যক্তিগত আক্রমণের ক্ষেত্রে ফ্রান্স, ইংল্যান্ড ও পর্তুগালের খেলোয়াড়দের পরেই চতুর্থ স্থানে ছিল আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা। এক্ষেত্রে আক্রমণের প্রধান কারণ ছিল বর্ণবাদ, যা মূলত কিছু খেলোয়াড়ের আফ্রিকান বংশোদ্ভূত পরিচয়ের ওপর কেন্দ্র করে চালানো হয়েছিল। টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি হেনস্তার শিকার হওয়া খেলোয়াড়ের পরিচয় গোপন রাখা হলেও, তিনি বর্ণবাদ, সমকামী-বিদ্বেষ (হোমোফোবিয়া), লিঙ্গবৈষম্য এবং রূপান্তরকামী-বিদ্বেষের (ট্রান্সফোবিয়া) শিকার হয়েছিলেন।

বিদেশ-বিদ্বেষমূলক আক্রমণের মূল লক্ষ্য ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা, আর্জেন্টিনা এবং ইংল্যান্ড। এসব আক্রমণের বিষয়বস্তুর মধ্যে ছিল অভিবাসন, জাতীয় পরিচয় এবং দলের গঠনশৈলী। তবে আর্জেন্টিনা নিজেও এই ধরনের বিদ্বেষ ছড়ানোর ক্ষেত্রে পিছিয়ে ছিল না। বর্ণবাদী বার্তা পাঠানোর তালিকায় তারা শীর্ষে ছিল। অবশ্য সামগ্রিক বা সাধারণ প্রকৃতির আক্রমণের সংখ্যার বিচারে ইউরোপ ছিল সবার আগে, যার ঠিক পরেই ছিল দক্ষিণ আমেরিকা। বিশ্বকাপে সবচেয়ে গুরুতর হুমকিগুলোর লক্ষ্যবস্তু ছিলেন ম্যাচ পরিচালনাকারী রেফারিরা। ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করে হয়রানি বাড়ানোর চেষ্টা যা ‘ডক্সিং’ নামে পরিচিত তার অধিকাংশ শিকার হয়েছেন তারা।

রেফারিদের বিরুদ্ধে এসব আক্রমণের পেছনে প্রধানত ছিল দুর্নীতি ও ম্যাচ পাতানোর সন্দেহ। অর্থাৎ, ম্যাচ পরিচালনা নিয়ে অসন্তোষ থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের চেষ্টা পর্যন্ত নানা ধরনের হয়রানির মুখে পড়েছেন তারা।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/186837