ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে কুটির শিল্প পরিবারদের দুর্দিন
হরিপুর (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে কুটির শিল্প (বাঁশ মালি) পরিবারগুলোর চরম দুর্দিন যাচ্ছে। পরিবার পরিজন নিয়ে ৩০টি কুটির শিল্প পরিবারের প্রায় এক শতাধিক মানুষ হতাশায় ভুগছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, পরিবারগুলো এখনো এ পেশা আঁকড়ে ধরে আছে। পৈতৃক পেশা টিকিয়ে রাখতে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছে। হরিপুর উপজেলা সদর থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে বামুনদিঘীর পাড়ে এ পরিবার গুলোর বসবাস। ১৯৭৫ সাল থেকে এখানে তারা কুড়েঘর ও ছাপড়া বানিয়ে জরাজীর্ণ পরিবেশের মধ্যে জীবন কাটাচ্ছে।
এ পরিবারগুলোর মধ্যে ১৮টি হচ্ছে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী যারা বংশানুক্রমে পেশায় বাঁশ মালী, আর ৭টি পরিবার হচ্ছে আদিবাসী ও ৫টি মুসলিম ধর্মীয় পরিবার। কৃষিকাজ বা চাসাবাদের জন্য তাদের নিজস্ব কোন জায়গা জমি নেই। বাঁশ মালী, দিনমুজুর আর শ্রমিকের কাজ করে চলে তাদের পরিবার।
পুকুরপাড়ে বসবাসকারী বিভোতি রাণী(৫৫), সরলাদাস(৭০), বুধু হেমরম(৬০), লক্ষী মারডিসহ(৮০) অনেকে বলেন, আমরা এখানে ৪৯ বছর বসবাস করে আসছি। পেশায় আমরা বাঁশ মালী। হাট বাজার ও গৃহস্থের বাড়ি থেকে বাঁশ কিনে বাড়িতে কৃষি কাজে ব্যবহৃত, ডালা, টোকরী, কুলা, চালনা, খইচালনা, ঢাকি, ডালী, হাতপাখাসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র তৈরি করে বাজারে বিক্রি করে যে টাকা পাই তা দিয়েই জীবিকা নির্বাহ করি।
বর্তমানে প্লাষ্টিকের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে আমাদের পণ্যের কদর কমে গেছে। বর্তমান বাজারে একটা বাঁশ কিনতে প্রায় ২শ’ টাকা লাগে। একটি কুলা বাজারে বিক্রি করি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়। সারাদিন খেটে ৪শ’ থেকে ৫শ’ টাকা পাইনা।
এ অবস্থায় পরিবার পরিজন নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে পেশা বদল করছে। কেউ দিনমজুর, কেউ ভেনগাড়ি ও অটো গাড়ি চালাচ্ছে। কুটির শিল্পের কারিগররা বলেন, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন(বিসিক) থেকে সহজ শর্তে ঋণ, আধুনিক প্রশিক্ষণ ও হরিপুরে স্থায়ীভাবে বাজার বা প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হলে এ ঐতিহ্য রক্ষা পাবে।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/186807