ডেঙ্গু: অক্টোবরের ৯ দিনেই ৫০ মৃত্যু
দেশে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে চলতি অক্টোবরের প্রথম ৯ দিনেই ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ জনে। আর এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট ২৯৫ জনের প্রাণহানি হলো।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের ডেঙ্গুসংক্রান্ত নিয়মিত ড্যাশবোর্ড থেকে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, ডেঙ্গুতে সবশেষ মারা যাওয়া ব্যক্তিটি শূন্য থেকে পাঁচ বছর বয়সী একটি শিশু ছেলে। এ বছর মোট মারা যাওয়া ২৯৫ জনের মধ্যে ৫১ দশমিক ৯ শতাংশ নারী এবং ৪৮ দশমিক ১ শতাংশ পুরুষ।
চলতি বছরে ডেঙ্গুর বিস্তার বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বছরের শুরুতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও পরবর্তীতে তা ক্রমেই অবনতির দিকে গেছে। জানুয়ারিতে ২ জন ও ফেব্রুয়ারিতে ২ জনের মৃত্যুর পর মার্চ ও এপ্রিলে কোনো প্রাণহানি হয়নি। এরপর মে মাসে ১ জন এবং জুনে ১৩ জনের মৃত্যু হয়।
তবে জুলাই (৩৬ জন) ও আগস্টে (৪৩ জন) মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ার পর সেপ্টেম্বরে পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করে, যে মাসে ডেঙ্গুতে ১৪৮ জনের প্রাণ যায়। আর চলতি অক্টোবর মাসের মাত্র ৯ দিনেই মারা গেছেন ৫০ জন; যার মধ্যে গত ৬ অক্টোবর এক দিনেই সর্বোচ্চ ১০ জনের মৃত্যুর রেকর্ড রয়েছে।
বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ডেঙ্গুতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকার হাসপাতালে সর্বাধিক ৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) ৩৫ এবং সিটি করপোরেশনের বাইরে ১৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। অন্যান্য অঞ্চলের মধ্যে খুলনায় ৬০, চট্টগ্রামে ২৫, বরিশালে ২৫, ময়মনসিংহে ২৩, রাজশাহীতে ২১, রংপুরে ৬ এবং সিলেটে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ১ হাজার ৩০০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মাধ্যমে চলতি বছর হাসপাতালে মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা পৌঁছেছে ৯৫ হাজার ৪৫১ জনে।
মাসের হিসাব অনুযায়ী, অক্টোবরের প্রথম ৯ দিনেই ১৫ হাজার ৮৩১ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর আগে সেপ্টেম্বরে সর্বোচ্চ ৪৩ হাজার ৭৭৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। এছাড়া জানুয়ারিতে ১ হাজার ৮১, ফেব্রুয়ারিতে ৪০৯, মার্চে ৩৫৩, এপ্রিলে ৬৪০, মে মাসে ৭১৪, জুনে ২ হাজার ৯০৭, জুলাইয়ে ৯ হাজার ২০৬ এবং আগস্টে ২০ হাজার ৫৩৬ জন হাসপাতালে এসেছিলেন।
আক্রান্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৮৯ হাজার ৩৩৮ জন রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/186792