চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে ছেলের বিরুদ্ধে বাবাকে মানসিক রোগী সাজানো অভিযোগ
শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি: চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে বাবাকে মানসিক রোগী সাজানোর অভিযোগ উঠেছে ছেলের বিরুদ্ধে। আজ শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে শিবগঞ্জের একটি প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন বাবা আফজাল বিশ্বাস।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ১৮ মাস আগে ক্যান্সারে আক্রান্ত হলে দুই জামাই প্রায় ৫ লাখ টাকা দিয়ে চিকিৎসা করায়। তার স্ত্রী মোসা. রুমালী বেগম হৃদরোগে আক্রান্ত দীর্ঘদিন ধরে। তার অপারেশনের সময় ঢাকার বাসায় গেলে তার স্ত্রীকে মানসিক নির্যাতন শুরু করে ছেলে আসাদুজ্জামান টুনু ও তার স্ত্রী আফিফা বেগম। এতে তার স্ত্রী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে।
একমাত্র ছেলে আসাদুজ্জামান টুনু সম্পত্তি হাতিয়ে নিতে না পারায় সর্ম্পকে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়। তিনি আরও বলেন, ৬ মাস আগে দ্বিতীয়বার ক্যান্সারের চিকিৎসা করাতে গেলে টাকা না থাকায় জমি বিক্রিতে বাধা দেয় ছেলে। একইসাথে তাকে, তার স্ত্রী ও দুই মেয়ে জামাইসহ আত্মীয়স্বজনকে বিভিন্ন হুমকি প্রদান করে মানসিক নির্যাতন করে আসছে সে।
এ ঘটনায় শিবগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরী (জিডি) করেন তিনি। সে সময় ঢাকা থেকে এসে নিজ বাড়িতে উঠতে গেলে তিনি ছেলেকে বাধা দেন। পরে ছেলে তাকে মানসিক রোগী সাজিয়ে চিকিৎসকের কাছ থেকে সনদ নিয়ে সাব-রেজিস্টারসহ বিভিন্ন দপ্তরে প্রদান করে।
তিনি বলেন, যাতে কোনোভাবে চিকিৎসার জন্য জমি বিক্রি করতে না পারি। সেজন্য তাকে মানসিক রোগী সাজানো হয়েছে। তাকে সমাজে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য বিভিন্নভাবে প্রতারণা করে আসছে। এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে ও তার স্ত্রী এবং দুই জামাইকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে আসছে। এসময় ছেলের বিরুদ্ধে সঠিক তদন্তপূর্বক শাস্তির দাবি করেন তিনি।
তবে সনদে স্বাক্ষর করা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মাহবুব হোসেন বলেন, তিনি যখন এসেছিলেন, তখন ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ায় মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন মর্মে সনদ দেয়া হয়েছিল। এখন যদি সুস্থ হন, তাহলে সার্টিফাই কপি দেয়া হবে।
এদিকে আসাদুজ্জামান টুনু বলেন, বড় চাচা ও বোন মিলে একটি চক্র বাবার সম্পত্তি হাতিয়ে নিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগই মিথ্যা। তিনি ১৮ মাসের মধ্যে ১৫ মাসই তার বাড়িতে রেখে বাবার চিকিৎসা করিয়েছেন। বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাসপোর্ট তৈরি করেছেন।
তাদের প্রায় ১৫ বিঘা জমি ইতোমধ্যেই অন্যের কাছে বিক্রি ও ২ বোনের কাছে হস্তান্তর করেছেন তার বাবা-মা। আর এর প্রতিবাদ করায় মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/186780