দিল্লিতে ককরোচদের ডাকা আন্দোলনে যোগ দিতে পারেন মমতা

দিল্লিতে ককরোচদের ডাকা আন্দোলনে যোগ দিতে পারেন মমতা

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আগামী ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’(সিজেপি)। সেই প্রতিবাদকে আরও ঝাঁঝালো করতে আরশোলাদের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে পারেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। যদিও এখনও পর্যন্ত তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন নি।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকালে দিল্লিতে বিজেপি বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের চলমান বিক্ষোভে অংশ নিতে কলকাতা থেকে দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দেন মমতা ব্যানার্জি।

এ সময় কলকাতার নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গণমাধ্যমের কর্মীদের সামনে মুখোমুখি হয়ে এই মন্তব্য করেন তিনি। বাংলায় কথিত এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং নির্বাচনী কারচুপির জন্য তিনি বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনেরও তীব্র সমালোচনা করেন।

মমতা বলেন, ‘১০ অক্টোবর যন্তর মন্তরে যে বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে, তাতে আমি হয়তো যোগ দিতে পারি; তবে এখনই এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। তাদের (সিজেপি-র) সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ ও সমর্থন অব্যাহত রয়েছে, তবে আমাদের অংশগ্রহণের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত পরে নেওয়া হবে’।

রাজ্যের ভোটার তালিকা থেকে কয়েক লাখ ভোটারের নাম অন্যায়ভাবে বাদ দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে বরাবরই সরব থেকেছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী। বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে ভোট লুট এবং জোর করে ক্ষমতা দখলেরও অভিযোগ তুলে আসছেন মমতা।

এই ইস্যুতে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে এক হাত নিয়ে মমতা বলেন, ‘বাংলায় যেভাবে নির্বাচন হয়েছে, তেমনটা আগে কখনও দেখা যায়নি। নির্বাচনের আগেই কেউ কি কখনও শুনেছেন যে কোনো দল ঘোষণা করছে তারা ঠিক কত ভোটে জিতবে? এই ধরনের ঘোষণা সুপরিকল্পিত ভোটদান, ভুয়া ভোট, কারচুপি এবং ভোট লুটের বিষয়ে স্পষ্ট প্রশ্ন তোলে।

এ ধরনের কার্যকলাপ দীর্ঘকাল চলতে পারে না এবং ভোট লুট করে কোনো দলই অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে না বলেও অভিমত তার।

আসন্ন উৎসবের মৌসুমে এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়াটা জরুরি বলেও মনে করেছেন তিনি। তার অভিমত, ‘মানুষ যখন কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের জন্য সোচ্চার হচ্ছে, তখন আমাদের অবশ্যই তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে; এমন এক সংকটপূর্ণ মুহূর্তে আমাদের অনুপস্থিতি সঠিক বার্তা দেবে না। তাছাড়া শুরুতে আমি এই কর্মসূচিতে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, কিন্তু যেহেতু আমার নাম তালিকায় ছিল এবং আয়োজকরা ব্যক্তিগতভাবে আমার উপস্থিতি চেয়েছিলেন, তাই আমি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। বিশেষ করে যখন একটি আন্দোলন চলছে, তখন এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আমাদের অনুপস্থিত থাকাটা ঠিক হবে না’।

গত ৬ অক্টোবরের বিক্ষোভের সময় দিল্লি পুলিশ রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদরার সঙ্গে যে আচরণ করেছিল, তাকে ‘অনুচিত’ আখ্যা দিয়ে কংগ্রেসের এই দুই নেতার প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন মমতা। ‘রাহুল গান্ধী বিরোধী দলের নেতা এবং সারা দেশেই বিক্ষোভ চলছে। যেকোনো আন্দোলনে অংশ নেওয়ার অধিকার সবারই আছে; তবে প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছিল, তাও অত্যন্ত ভুল ছিলে বলেও দাবি করেন তিনি।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/186708