গাবাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ অভিযানের খবরে তালা ঝুলিয়ে লাপাত্তা ক্লিনিক মালিক
গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি : গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ পৌর শহরের পশ্চিম চারমাথা এলাকায় আরোগ্য ক্লিনিকে একদিন আগেও অস্ত্রোপচারসহ চালু ছিল চিকিৎসা কার্যক্রম। পরদিনই হঠাৎ পাল্টে যায় চিত্র। নেই কোন রোগী, বন্ধ চিকিৎসা কার্যক্রম। রোগীর স্বজনদের সরব উপস্থিতিতে গমগম করত আরোগ্য ক্লিনিক। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অভিযানে খবরে তড়িঘড়ি করে রোগীদের বের করে মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে ক্লিনিকের কর্মচারী ও মালিক গা ঢাকা দেন।
গতকাল বুধবার (৭ অক্টোবর) বেলা আড়াইটার দিকে প্রশাসনের লোকজন অভিযান চালাতে গিয়ে প্রধান ফটক তালাবদ্ধ পান। ভেতর ও বাইরে সুনসান নীরবতা। খোঁজ করে মালিকপক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে ফোনও ধরছিলেন না কেউ। শেষে ভবন মালিককে বিষয়টি অবগত ফিরে ফিরে যান অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তাগণ।
স্থানীয়রা জানান, দুই বছর আগে আরোগ্য ক্লিনিক প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিদিন অসংখ্য রোগীর আসা-যাওয়া থাকে এই ক্লিনিকে। অভিযান হবে, এ তথ্য জানা ছিল ক্লিনিক মালিক ডাবলু মন্ডলের। শেষে তড়িঘড়ি রোগীদের বের করে দেওয়া হয়। পরে প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে সটকে পড়েন তারা।
স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, অবৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিক বন্ধের সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সিভিল সার্জন ডা. মো. রফিকুজ্জামান এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাসুদার রহমান আকন্দ।
সিভিল সার্জন ডা. মো. রফিকুজ্জামান বলেন, অভিযোগ ছিল আরোগ্য ক্লিনিকের লাইসেন্স নেই। লাইসেন্স ছাড়াই তারা অবৈধভাবে ক্লিনিকের কার্যক্রম চালাচ্ছেন। আমরা সরেজমিনে এসে দেখলাম, অভিযানের খবর পেয়ে তারা ক্লিনিক বন্ধ করে তালা দিয়ে পালিয়ে গেছে। আমরা বাসার মালিকের সাথে ফোনে যোগাযোগ করি। তিনিও সহযোগিতা করেননি। এমন অবস্থায় আমরা মোবাইল কোর্ট করার চেষ্টা করি কিন্তু ইউএনও ও এসিল্যান্ড ব্যস্ত থাকায় সেটা সম্ভব হয়নি। আমরা বাসার মালিককে মৌখিকভাবে রেস্ট্রিকশন দিয়েছি। এখানে কোনোভাবেই ক্লিনিকের কার্যক্রম যেন না চলে। আমাদের পক্ষ থেকে পুরো ঘটনাটিকে বর্ণনা করে একটি লিখিত ইন্সট্রাকশন দিবো। পাশাপাশি এরকম যত লাইসেন্সবিহীন ক্লিনিক আছে বা অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করছে, আগামীতে তাদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/186634