ইউয়েফার নতুন শাস্তির শঙ্কায় ম্যান সিটি

ইউয়েফার নতুন শাস্তির শঙ্কায় ম্যান সিটি

স্পোর্টস ডেস্ক : ম্যানচেস্টার সিটির আইনি জটিলতা যেন কাটছেই না। এবার নতুন করে ইউয়েফার শাস্তির মুখে পড়তে পারে সিটিজেনরা। ক্লাবটির ওপর গৌণ বা অতিরিক্ত শাস্তি আরোপের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, ফলে দ্বিগুণ বিপদের আশঙ্কায় রয়েছে ইংলিশ জায়ান্টরা।

আর্থিক নিয়মকানুন লঙ্ঘনের ১১৪টি অভিযোগে প্রিমিয়ার লিগ জায়ান্টদের দোষী সাব্যস্ত করে সম্প্রতি রায় দেওয়ার পর ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা এই পুরো পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে।

প্রিমিয়ার লিগের আনা ১১৫টি আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের মধ্যে ১১৪টিতেই সম্প্রতি দোষী সাব্যস্ত হয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর অন্যতম হলো—২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ক্লাবটি কৃত্রিম স্পন্সরশিপ চুক্তির নাটক সাজিয়ে প্রায় ৯০০ মিলিয়ন পাউন্ড রাজস্ব বাড়িয়ে দেখিয়েছিল।

এই রায়ের পর ইংলিশ জায়ান্ট ম্যান সিটি গত সপ্তাহে আনুষ্ঠানিকভাবে আপিল করেছে। ক্লাবটি তাদের সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে আসছে এবং তাদের জোর দাবি, তাদের কাছে এমন 'অকাট্য প্রমাণ' রয়েছে যা শেষ পর্যন্ত তাদের সমস্ত অন্যায় থেকে মুক্ত করবে।

তিন সদস্যের একটি স্বাধীন প্যানেল ক্লাবটির এই আপিল পর্যালোচনা করবে। চলতি মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই এই বিষয়ে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্কাই স্পোর্টসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইংল্যান্ডে চলমান এই আইনি লড়াইয়ের ওপর কড়া নজর রাখছে ইউয়েফা। জানা গেছে, সিটির আপিলের বিষয়ে স্বাধীন প্যানেল চূড়ান্ত রায় না দেওয়া পর্যন্ত ইউরোপীয় ফুটবলের এই নিয়ন্ত্রক সংস্থা নিজস্ব কোনো তদন্ত শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত থাকবে।

তবে প্রিমিয়ার লিগের দেওয়া রায় যদি শেষ পর্যন্ত বহাল থাকে, সে ক্ষেত্রে ইউয়েফা ঠিক কী ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে তা এখনো স্পষ্ট নয়। ঘরোয়া লিগে নিজেদের নাম কলঙ্কমুক্ত করতে যখন সিটি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে, তখন ইউরোপীয় পর্যায়ে এই নতুন শাস্তির আশঙ্কা ম্যানচেস্টারের এই ক্লাবের জন্য বিপদের নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

আর্থিক নিয়মকানুনের বিষয়ে ফুটবল কর্তৃপক্ষের সাথে সিটির মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর আগে ২০২০ সালে ফাইনান্সিয়াল ফেয়ার প্লে (এফএফপি) লঙ্ঘনের দায়ে ইউয়েফা সিটিকে দুই বছরের জন্য ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় নিষিদ্ধ করেছিল এবং ৩০ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ২৫.৪ মিলিয়ন পাউন্ড) জরিমানা করেছিল।

তবে সেবার স্পোর্টস সালিশি আদালতে (সিএএস) আপিল করে সেই নিষেধাজ্ঞা বাতিল করাতে সক্ষম হয়েছিল সিটি।

এমনকি জরিমানার পরিমাণও কমিয়ে ১০ মিলিয়ন ইউরো করা হয়েছিল।

এদিকে ঘরোয়া ফুটবলেও সিটির ওপর ঝুলছে বিশাল ঝুঁকি। প্রিমিয়ার লিগের সম্ভাব্য শাস্তি নিয়ে নানা গুঞ্জন ভাসছে—যার মধ্যে রয়েছে বড় অঙ্কের পয়েন্ট কর্তন ও ভারি জরিমানা থেকে শুরু করে অতীতে জেতা বড় বড় শিরোপা কেড়ে নেওয়া কিংবা প্রিমিয়ার লিগ থেকে সরাসরি বহিষ্কার করার মতো বড় সব শাস্তি!

আপাতত সিটির প্রধান নজরটা মাঠের ফুটবলেই থাকছে, তবে মাথার ওপর ঝুলতে থাকা এই আইনি লড়াই যে তাদের এই পুরো মৌসুমের ওপর উদ্বেগের ছায়া ফেলবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। চলতি মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই আপিল প্যানেল তাদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে, তাই ক্লাবটি এখন এক চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে প্রহর গুনছে।

যতক্ষণ না পর্যন্ত এই আইনি প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত রায় আসছে, ততক্ষণ প্রিমিয়ার লিগের ঘরোয়া শাস্তি এবং পরবর্তী সময়ে উয়েফার যে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত স্থগিতই থাকছে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/186587