ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় রাতের আঁধারে বাড়ির সামনে থেকে মো. রাজিব নামে এক যুবককে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে মারধরের পর তার ২ চোখ উপরে ফেলার অভিযোগ ঘটেছে। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার্ড করা হয়েছে। এছাড়া এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর ইমাম হোসেন নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আজ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে বোরহানউদ্দিন থানায় ৫ জনের নাম উল্লেখ করে ও আরও বেশ কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন ভুক্তভোগীর স্ত্রী ফারহানা।
এরআগে, সোমবার (৫ অক্টোবর) দিনগত মধ্যরাতে বোরহানউদ্দিনে অবস্থিত ভোলা পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের পাশ থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়।
ভুক্তভোগী রাজিব উপজেলার সাচড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ফারুক খানের ছেলে। এছাড়া গ্রেপ্তারকৃত রাজিব একই বাড়ির আমির খানের ছেলে বলেও জানা গেছে।
মামলার এজাহার,পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, গতকাল সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১১টার দিকে বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে মোবাইল টিপছিল রাজিব। এসময় হঠাৎ একটি মাইক্রোবাস নিয়ে আসামিরা আসে এবং রাজিব কিছু বুঝে ওঠার আগেই মুখ চেপে ধরে তাকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে পথে অমানবিক নির্যাতন করে ও তার চোখ দুটি তুলে ফেলে পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের পাশে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ফেলে যায়।
এসময় তার চিৎকার শুনে সেখানকার শিক্ষার্থীরা বেরিয়ে এসে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে ৯৯৯ এ কল দিলে বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। প্রথমে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয় এবং তার পরিবারকে খবর দেয়। পরে সেখান থেকে ভোলা জেনারেল হাসপাতালে নিলে সকালে ভোলা জেনারেল হাসপাতাল থেকে তাকে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়েছে।
রাজিবের বড় ভাই রিয়াজ অভিযোগ করে বলেন, আমরা রাজিবের উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলা থেকে ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছি। রাজিবের চোখ নষ্ট করে দেওয়াসহ শরীরে ও মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের কয়েকজনকে চিনেছে ও তাদের নাম বলেছে রাজিব। মামলা হয়েছে, আমরা প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার চাই।বিকেলে বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশ্রাব আলী বলেন, ৯৯৯ এ ফোন পেয়ে থানা পুলিশ গিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। দুপুরে রাজিবের স্ত্রী বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ইমাম হোসেন নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আসামিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদসহ আদালতে সোপর্দ করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়া মামলাটির বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টাসহ অন্যান্য আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলছে বলেও জানান তিনি।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/186395